একাদশে ভর্তি নীতিমালা ২০২৬: আবেদন, কোটা ও জিপিএ সমান হলে মেধাক্রম নির্ধারণ

Table of contents
Telegram chanel Join our Telegram channel
Join
Spread the love

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি। কোন তারিখে আবেদন করতে হবে, কীভাবে শিক্ষার্থী নির্বাচন হবে, কত শতাংশ আসন কোটায় থাকবে এবং একই জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাক্রম কীভাবে নির্ধারণ করা হবে—এসব বিষয় নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালায় আবেদন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী নির্বাচন, ভর্তি নিশ্চায়ন এবং ক্লাস শুরুর সময় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই মেধাক্রম তৈরি করে ভর্তি করা হবে। ২০২৬ সালের একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো সহজভাবে নিচে তুলে ধরা হলো।

একাদশে ভর্তি ২০২৬ কবে থেকে শুরু?

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইন আবেদন শুরু হবে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে। শিক্ষার্থীরা ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন। আবেদন করার সময় পছন্দের কলেজ ও বিভাগ নির্বাচন করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ 

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ২০২৬: আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর | জেনে নিন সব তথ্য

এরপর বিভিন্ন ধাপে ফল প্রকাশ, ভর্তি নিশ্চায়ন এবং চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এক নজরে একাদশে ভর্তি ২০২৬-এর গুরুত্বপূর্ণ তারিখ

কার্যক্রম তারিখ ও সময়
অনলাইনে মূল আবেদন ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত
পুনর্নিরীক্ষণ/পুনর্মূল্যায়নের পর পরিবর্তিত ফলের আবেদন ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত
পছন্দক্রম পরিবর্তন ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা
ভর্তি নিশ্চায়নের শেষ সময় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা
চূড়ান্ত ভর্তি ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একাদশের ক্লাস শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে তার নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়নের কাজ শেষ করা জরুরি।

একাদশে ভর্তিতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আলাদা কোনো বাছাই পরীক্ষা বা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলই হবে শিক্ষার্থী নির্বাচনের প্রধান ভিত্তি। অর্থাৎ কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করা হবে এবং সেই অনুযায়ী আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে।

তাই শিক্ষার্থীদের আলাদা কোনো ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং আবেদন করার সময় কলেজ ও বিষয় পছন্দের ক্রম সঠিকভাবে দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করাই গুরুত্বপূর্ণ।

৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে, ৭ শতাংশ কোটা

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালায় মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সাধারণ মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে। এসব আসনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

একাদশে ভর্তি নীতিমালা ২০২৬

অন্যদিকে মোট আসনের ৭ শতাংশ নির্দিষ্ট কোটার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এই ৭ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ১ শতাংশ আসন রাখার কথা নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।

কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে কী প্রমাণ দিতে হবে?

মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা হিসেবে কোটায় আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি দিতে হবে। ভর্তি সম্পন্ন করার সময় প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্রও দেখাতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই করার পর ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে। একই কোটায় আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে ওই কোটার প্রার্থীদের মধ্য থেকেই মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট আসন খালি রাখা হবে না। মেধাতালিকা থেকে ওই আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করার ব্যবস্থা থাকবে।

এই ৭ শতাংশ কোটা কতদিন কার্যকর?

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই কোটাপদ্ধতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্যই প্রযোজ্য। ভবিষ্যৎ শিক্ষাবর্ষে একই নিয়ম থাকবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সময়ের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তাই পরবর্তী বছর ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আগের বছরের কোটা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

জিপিএ সমান হলে মেধাক্রম কীভাবে হবে?

একাদশে ভর্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহের একটি বিষয় হলো—দুজন বা একাধিক শিক্ষার্থীর জিপিএ যদি একই হয়, তাহলে কে আগে সুযোগ পাবে?

নীতিমালা অনুযায়ী, একই জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ শুধু জিপিএ দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না; প্রয়োজন হলে পরীক্ষায় পাওয়া মোট নম্বরও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বরকে সমতুল্য করে হিসাব করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন বছরের ফলাফলের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে বিবেচনা করা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ও মোট নম্বর সমান হলে

বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে একই জিপিএ এবং একই মোট নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের নম্বর পর্যায়ক্রমে দেখা হবে। প্রথমে সাধারণ গণিত এবং উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে পাওয়া নম্বর বিবেচনা করা হবে।

এরপরও যদি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে পাওয়া নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সমান ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাক্রম নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান ফল হলে

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে একই মোট নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে।

অর্থাৎ জিপিএ একই হওয়ার পর মোট নম্বরও যদি একই হয়, তখন নির্দিষ্ট বিষয়ের নম্বরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রম নির্ধারণ করা হবে। এতে একই ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা সম্ভব হবে।

এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে ভর্তি হলে নিয়ম কী?

এক বিভাগের শিক্ষার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির জন্য আবেদন করলে জিপিএ একই হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করে মেধাক্রম তৈরি করা হবে। এরপরও যদি একই অবস্থান থেকে যায়, তাহলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে পাওয়া নম্বর বিবেচনা করা হবে।

আরো পড়ুনঃ 

এইচএসসি পাস শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ৩ মাস ফ্রিল্যান্সিং, দিনে ভাতা ২০০ টাকা(আবেদন পদ্ধতি দেখুন)

তবে বিভাগ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের আসন, ভর্তি যোগ্যতা এবং নীতিমালায় নির্ধারিত অন্যান্য শর্তও প্রযোজ্য হবে। তাই শুধু জিপিএ দেখে বিভাগ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। যে কলেজে আবেদন করা হবে, সেই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত যোগ্যতাও দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

পছন্দের কলেজ নির্বাচনের সময় কী খেয়াল রাখবেন?

একাদশে ভর্তি পুরোপুরি ফলাফলের ভিত্তিতে হলেও শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন করার সময় নিজের ফলাফল, পছন্দের বিভাগ, কলেজের আসনসংখ্যা এবং নিজের সম্ভাব্য অবস্থান বিবেচনা করে পছন্দক্রম সাজানো ভালো।

শুধু নামী কলেজকে পছন্দের তালিকার শুরুতে রাখলেই যে সেখানে ভর্তি নিশ্চিত হবে, এমন নয়। মেধাক্রম এবং সংশ্লিষ্ট কলেজের আসনসংখ্যার ওপর নির্বাচন নির্ভর করবে। তাই বাস্তবসম্মতভাবে কয়েকটি পছন্দ দেওয়া শিক্ষার্থীর জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে

নীতিমালার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফল পরিবর্তিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তাই আবেদন করার পর ফল প্রকাশের প্রতিটি ধাপের দিকে নজর রাখা উচিত। কোনো কারণে ফলাফল পরিবর্তিত হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদন বা পছন্দক্রম সংশোধন করা দরকার।

একাদশে ভর্তির সময় কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

ভর্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্ধারিত সময় মেনে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা। অনলাইনে আবেদন করার পর শুধু ফল প্রকাশের অপেক্ষায় থাকলেই হবে না। নির্বাচিত হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে এবং এরপর চূড়ান্ত ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বোর্ড নির্ধারিত আসন, তালিকা ও সময়ের বাইরে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্বভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। একইভাবে নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করার সুযোগও নেই।

বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রেও ভর্তি ফি, মাসিক বেতন এবং অন্যান্য খরচের তথ্য প্রকাশের নিয়ম রাখা হয়েছে। ফলে ভর্তি হওয়ার আগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কলেজের নির্ধারিত খরচ সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।

একাদশে ভর্তি ২০২৬: সংক্ষেপে যা জানা জরুরি

  • অনলাইনে আবেদন শুরু হবে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
  • মূল আবেদন করা যাবে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত।
  • পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের জন্য ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
  • ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর পছন্দক্রম পরিবর্তন করা যাবে।
  • নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়।
  • ভর্তি নিশ্চায়নের শেষ সময় ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা।
  • চূড়ান্ত ভর্তি চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর।
  • কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না।
  • এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি হবে।
  • ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ মেধার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
  • ৭ শতাংশ আসন নির্দিষ্ট কোটায় সংরক্ষিত থাকবে।
  • একই জিপিএ হলে মোট নম্বর বিবেচনা করা হবে।
  • মোট নম্বরও সমান হলে বিভাগভেদে নির্দিষ্ট বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করা হবে।
  • একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

সরকারি নীতিমালা কোথায় পাওয়া যাবে?

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত মূল নীতিমালা দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ ভর্তি কার্যক্রমের সময় কোনো নির্দেশনা বা তথ্য পরিবর্তন হলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

এখান থেকে অফিসিয়াল নোটিশ দেখুন 

বিশেষ পরামর্শ: আবেদন করার আগে নিজের এসএসসি বা সমমানের ফলাফল, পছন্দের কলেজ, বিভাগ, কোটা প্রযোজ্য কি না এবং নির্ধারিত সময়সূচি ভালোভাবে যাচাই করুন। কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা সরকারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

আরো পড়ুনঃ 

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা রুটিন ২০২৬: ৮ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা, জেনে নিন ৬ নির্দেশনা

 

সরকারি নীতিমালা: একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালার মূল বিজ্ঞপ্তি ও বিস্তারিত নির্দেশনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কি ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে?

না। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

একাদশে ভর্তিতে মোট কত শতাংশ আসন কোটায় রাখা হয়েছে?

নীতিমালা অনুযায়ী মোট আসনের ৭ শতাংশ নির্দিষ্ট কোটার জন্য রাখা হয়েছে। বাকি ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জিপিএ একই হলে কার মেধাক্রম আগে হবে?

জিপিএ একই হলে প্রথমে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। মোট নম্বরও একই হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জন্য নির্ধারিত বিষয়গুলোর নম্বর পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।

ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে কী হবে?

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে তার নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হওয়ার কথা নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। তাই ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন করা জরুরি।

একাদশ শ্রেণির ক্লাস কবে শুরু হবে?

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শিক্ষার্থীদের জন্য এসএসসি পরবর্তী জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই শুধু কলেজের নামের দিকে না তাকিয়ে নিজের ফলাফল, পছন্দের বিভাগ, আসনসংখ্যা ও ভর্তি নীতিমালা বিবেচনা করে আবেদন করা উচিত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন, ফলাফল যাচাই, ভর্তি নিশ্চায়ন এবং চূড়ান্ত ভর্তি—প্রতিটি ধাপ ঠিকভাবে সম্পন্ন করলেই ভর্তি প্রক্রিয়াটি সহজ হবে।


Spread the love
Telegram chanel Join our Telegram channel
Join
LekhokBD.me

আমি রিফাত, LekhokBD.me এর প্রতিষ্ঠাতা। আমি পেশায় একজন ছাত্র, বর্তমানে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত রয়েছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি,বাংলাদেশের নাগরিক সেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে LekhokBD তে সহজ ভাবে তুলে ধরে, মানুষের কাছে তথ্যকে সহজলভ্য করাই আমার মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment