একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ২০২৬: এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার নতুন করে একাদশ শ্রেণিতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের লাখো শিক্ষার্থী। কলেজ বাছাই, আবেদনের সময়, পছন্দক্রম এবং ভর্তি কবে হবে—এসব বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম এবার আগের পরিকল্পনার তুলনায় এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু করার প্রস্তাবও রয়েছে। তবে এই সময়সূচি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হবে।
এই প্রতিবেদনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ২০২৬ নিয়ে এখন পর্যন্ত জানা তথ্য, সম্ভাব্য সময়সূচি, আবেদন পদ্ধতি, পছন্দের কলেজ নির্বাচন, পুনর্নিরীক্ষণের ফল পরিবর্তন হলে করণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: ২ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর বিষয়টি বর্তমানে প্রস্তাবিত সূচি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তারিখ পরিবর্তিত হলে সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ২০২৬: বর্তমান প্রস্তাবিত সময়সূচি
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাসও আগেভাগে শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে আলোচনায় থাকা সময়সূচিটি হলো:
| কার্যক্রম | প্রস্তাবিত সময় |
|---|---|
| অনলাইনে প্রথম ধাপের আবেদন | ২ সেপ্টেম্বর – ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সম্ভাব্য |
| ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদন | ১২ – ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রস্তাবিত |
| ভর্তি কার্যক্রম | ২০ – ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রস্তাবিত |
| ক্লাস শুরু | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রস্তাবিত |
এই সূচি এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। তাই আবেদন শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও কেন্দ্রীয় ভর্তি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে তারিখ নিশ্চিত করা উচিত।
কেন একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম এগিয়ে আনা হচ্ছে?
আগের পরিকল্পনায় সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আবেদন শুরু করে নভেম্বরের দিকে ক্লাস শুরুর কথা ছিল। নতুন প্রস্তাবে পুরো প্রক্রিয়াটি এগিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা অপেক্ষাকৃত দ্রুত কলেজের নিয়মিত পাঠদানে যুক্ত হতে পারবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় যাতে অযথা নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন সময়সূচি প্রস্তাব করা হয়েছে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কি ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে হবে?
বর্তমান ভর্তি ব্যবস্থায় সাধারণ কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আলাদা কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা নেই। শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত বিবেচনা করে মনোনয়ন দেওয়ার পদ্ধতিই অনুসরণ করা হচ্ছে।
আরো পড়ুনঃ
একাদশে ভর্তি নীতিমালা ২০২৬: আবেদন, কোটা ও জিপিএ সমান হলে মেধাক্রম নির্ধারণ
অর্থাৎ শুধু একটি কলেজে আবেদন করলেই সেখানে ভর্তি নিশ্চিত হবে—এমন নয়। আবেদন করার সময় পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক ক্রমে সাজানো গুরুত্বপূর্ণ।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন কোথায় করতে হবে?
কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করার প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। গত ভর্তি কার্যক্রমেও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কারিগরি সহায়তায় কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমান কেন্দ্রীয় ভর্তি সিস্টেমের ওয়েবসাইট হলো:
একাদশ শ্রেণির কেন্দ্রীয় ভর্তি ওয়েবসাইট – xiclassadmission.gov.bd
ওয়েবসাইটে আবেদন চালু হলে সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন করার আগে নিজের এসএসসি/সমমান পরীক্ষার ফল, রোল ও রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত তথ্য হাতের কাছে রাখা ভালো।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করার নিয়ম
আবেদন প্রক্রিয়া চালু হলে শিক্ষার্থীকে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। সহজভাবে পুরো বিষয়টি এমন:
- কেন্দ্রীয় একাদশ শ্রেণির ভর্তি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
- এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিজের প্রোফাইল/আবেদন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করুন।
- পছন্দের কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করুন।
- পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রাধিকার অনুযায়ী সাজান।
- নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ করুন।
- আবেদনের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে চূড়ান্তভাবে আবেদন জমা দিন।
- আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য বা প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
আবেদন চালুর পর ওয়েবসাইটে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে সেটিই অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ আবেদন ফি, পেমেন্ট পদ্ধতি বা কোনো কারিগরি ধাপ সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
কতটি কলেজ পছন্দ দেওয়া যাবে?
আগের কেন্দ্রীয় ভর্তি ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের একাধিক কলেজ পছন্দ দেওয়ার সুযোগ ছিল। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে যদি এই সংখ্যা বা নিয়ম পরিবর্তন করা হয়, তাহলে নতুন নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: জ্যামিতির গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি প্রশ্ন ও উত্তর
তাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে নিজের ফলাফল, পছন্দ, যাতায়াতের সুবিধা এবং প্রতিষ্ঠানের আসনসংখ্যা বিবেচনা করে পছন্দক্রম সাজানো বুদ্ধিমানের কাজ।
কলেজ নির্বাচনের সময় কোন বিষয়গুলো দেখবেন?
এসএসসির ফল ভালো হলেই যে যেকোনো পছন্দের কলেজে ভর্তি নিশ্চিত হবে, বিষয়টি এমন নয়। জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আসন সীমিত হওয়ায় সেখানে প্রতিযোগিতাও বেশি হতে পারে।
কলেজ পছন্দ করার আগে নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে দেখা যেতে পারে:
- নিজের GPA ও প্রাসঙ্গিক ভর্তি যোগ্যতা
- কলেজের নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতা
- বিজ্ঞান, মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা—কোন বিভাগে পড়তে চান
- কলেজের অবস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থা
- আসন সংখ্যা
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী ফলাফল
- শিক্ষার পরিবেশ ও নিয়মকানুন
- প্রয়োজনীয় মাসিক ও অন্যান্য খরচ
এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করলে কী করবেন?
এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ। যেসব শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন, তাদেরও প্রস্তাবিত প্রথম ধাপের সময়ের মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে হবে।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী ১০ সেপ্টেম্বর পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন করে আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ কারণে পুনর্নিরীক্ষণের ফলের অপেক্ষায় থেকে প্রথম ধাপের আবেদন বাদ দেওয়া ঠিক হবে না। চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে যে নির্দেশনা দেওয়া থাকবে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
ভর্তি কার্যক্রম কবে হতে পারে?
নতুন প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর প্রস্তাব রয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—প্রস্তাবিত তারিখ আর চূড়ান্ত সরকারি সময়সূচি এক বিষয় নয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রকাশিত অফিসিয়াল নোটিশই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
কোনো কলেজে সুযোগ না পেলে কী হবে?
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় এমন শিক্ষার্থীদের জন্য পরবর্তী সময়ে আবেদন করার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে, যারা নির্ধারিত সময়ে কোনো কলেজ বা মাদ্রাসায় ভর্তির সুযোগ পাবে না, পছন্দের প্রতিষ্ঠান পাবে না অথবা কোনো কারণে প্রথম ধাপে আবেদন করতে পারবে না।
এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ: বাছাই করা সেরা 50টি এম সি কিউ
এ ক্ষেত্রে পরবর্তী আবেদন বা ধাপের সময়সূচি কী হবে, কতটি পছন্দ দেওয়া যাবে এবং কারা আবেদন করতে পারবে—এসব বিষয় চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হবে। তাই কোনো অনানুষ্ঠানিক পোস্ট দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অফিসিয়াল নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।
এসএসসি ফলাফল ও একাদশে আসন পরিস্থিতি
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পাস করেছে। এই ফলাফলের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণির আসন সংখ্যাও শিক্ষার্থীর তুলনায় বড়। তবে মোট আসন বেশি থাকলেও প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার পছন্দের প্রতিষ্ঠান পাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে চাহিদাসম্পন্ন কলেজে আসন সীমিত থাকায় পছন্দক্রম দেওয়ার সময় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কি একই নিয়ম?
না। সাধারণ কলেজ ও মাদ্রাসার কেন্দ্রীয় একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি প্রক্রিয়া এক নয়। সাম্প্রতিক ভর্তি ব্যবস্থাতেও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি আলাদা প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়েছে।
আপনি যদি পলিটেকনিক, এইচএসসি ভোকেশনাল বা কারিগরি ধারার কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চান, তাহলে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
নটর ডেমসহ বিশেষ কলেজগুলোর ভর্তি কি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় হবে?
কিছু বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি প্রক্রিয়া সাধারণ কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার বাইরে থাকতে পারে। সাম্প্রতিক ভর্তি ব্যবস্থায় ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ব্যতিক্রম হিসেবে ছিল। তাই নির্দিষ্ট কোনো কলেজে ভর্তি হতে চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অবশ্যই দেখতে হবে।
আবেদনের আগে শিক্ষার্থীদের যে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত
আবেদন শুরুর আগেই কয়েকটি কাজ করে রাখলে শেষ মুহূর্তে ভুলের সম্ভাবনা কমে যায়।
- নিজের এসএসসি/সমমান পরীক্ষার ফলাফল আবার যাচাই করুন।
- কোন বিভাগে পড়বেন তা আগে ঠিক করুন।
- পছন্দের কলেজের একটি তালিকা তৈরি করুন।
- প্রতিটি কলেজের ন্যূনতম GPA ও আসনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করুন।
- বাসা থেকে কলেজে যাতায়াতের সময় বিবেচনা করুন।
- আবেদনের সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখুন।
- পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে থাকলে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা আলাদা করে খেয়াল করুন।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ২০২৬ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
ভর্তি মৌসুমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় পুরোনো নোটিশ, ভুল তারিখ কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে আবেদন ফি, কলেজের ন্যূনতম GPA এবং আবেদনের শেষ তারিখের ক্ষেত্রে পুরোনো বছরের তথ্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
কোনো ওয়েবসাইটে আবেদন করার আগে ঠিকানাটি ভালোভাবে যাচাই করুন। কেন্দ্রীয় আবেদন ব্যবস্থার জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন এবং অচেনা ব্যক্তি বা পেজকে টাকা দিয়ে আবেদন করানোর ঝুঁকি এড়িয়ে চলুন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও একাদশ শ্রেণির ভর্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নোটিশ যাচাই করা যেতে পারে।
দরকারি অফিসিয়াল লিংক
কেন্দ্রীয় ভর্তি ওয়েবসাইটে বর্তমানে সিস্টেম চালু না থাকলে আবেদন সংক্রান্ত পেজে সরাসরি আবেদন করার চেষ্টা না করে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করুন।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ২০২৬-এর আবেদন কবে শুরু হতে পারে?
বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আবেদন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তারিখ চূড়ান্ত হবে।
একাদশ শ্রেণির ক্লাস কবে শুরু হতে পারে?
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ক্লাস শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটিও চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
ভর্তি পরীক্ষা হবে কি?
সাধারণ কেন্দ্রীয় ভর্তি ব্যবস্থায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করার প্রস্তাব রয়েছে; আলাদা কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার কথা বলা হয়নি।
পুনর্নিরীক্ষণের ফল পরিবর্তন হলে কি আবার আবেদন করা যাবে?
প্রস্তাবিত সূচিতে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন করে আবেদনের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
প্রথম ধাপে আবেদন করতে না পারলে কী হবে?
পরবর্তী পর্যায়ে আবেদনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে কারা আবেদন করতে পারবে এবং সঠিক সময়সূচি চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কি শুধু কলেজেই হবে?
কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আওতায় কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি প্রক্রিয়া আলাদা।
এসএসসি শেষ করার পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই শুধু আবেদনের তারিখ জানলেই হবে না; কোন কলেজে আবেদন করবেন, কীভাবে পছন্দক্রম সাজাবেন এবং সরকারি নির্দেশনা কোথা থেকে যাচাই করবেন—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি আবেদন শুরু, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর প্রস্তাব রয়েছে। তবে এটিকে এখনই চূড়ান্ত সময়সূচি হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তারিখ নিশ্চিত হবে।
তাই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরামর্শ থাকবে—আবেদন শুরুর আগে কেন্দ্রীয় ভর্তি ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল নোটিশ একবার দেখে নিন। এতে ভুল তথ্যের কারণে আবেদন মিস করা বা ভুল পছন্দ দেওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
দাবিত্যাগ
এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত সময়সূচির কিছু অংশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে কোনো পার্থক্য দেখা গেলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। পাঠকদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রতিবেদন প্রস্তুত ও সম্পাদনা: LekhokBD Editorial Team