পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কী? আবেদন করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও খরচ

Table of contents
Telegram chanel Join our Telegram channel
Join
Spread the love

বিদেশে চাকরি, উচ্চশিক্ষা, অভিবাসন বা অন্য কোনো প্রয়োজনে অনেক সময় নিজের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই—এমন একটি সরকারি সনদ দেখাতে হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। বিশেষ করে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় এই সনদ নিয়ে অনেকেরই আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি এবং সংগ্রহের নিয়ম সম্পর্কে প্রশ্ন থাকে।

এই গাইডে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কী, কারা আবেদন করতে পারেন, অনলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন, কোন কাগজপত্র লাগবে, কত টাকা ফি দিতে হবে এবং আবেদন করার সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত—এসব বিষয় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো। তথ্যগুলো বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টালে প্রকাশিত নির্দেশনার ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ: আবেদন করার আগে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টালে সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন। নিয়ম, পেমেন্ট পদ্ধতি বা পোর্টালের কোনো কার্যক্রম পরিবর্তিত হলে অফিসিয়াল তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করবেন।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কী?

সহজভাবে বললে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট হলো পুলিশ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেওয়া একটি সনদ, যা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে একজন আবেদনকারীর পুলিশি যাচাই-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়। বিদেশে যাওয়া বা বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন কাজে এই সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, এই অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে মূলত বিদেশে যাওয়া বা বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশে অবস্থান করে পরে বিদেশে ফিরে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়।

আরো পড়ুনঃ 

জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করার নিয়ম ২০২৬ | অনলাইন আবেদন গাইড

তবে বাংলাদেশে চাকরি বা অন্য কোনো কাজের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হলে এই অনলাইন ব্যবস্থার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট জেলা ডিএসবি অফিস অথবা মহানগর এলাকার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

কারা পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন?

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পাসপোর্ট এবং ঠিকানার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৩ মাস থাকতে হবে।

আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা এবং পাসপোর্টে উল্লেখ করা স্থায়ী অথবা জরুরি যোগাযোগের ঠিকানা একই মহানগর বা জেলা পুলিশের আওতায় হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

পাসপোর্টে ঠিকানা না থাকলে বর্তমান ঠিকানার সমর্থনে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ অথবা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদ ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের নথির ক্ষেত্রে সরকারি পোর্টালে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার সত্যায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট করতে কত টাকা লাগে?

বর্তমান সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট-এর আবেদন ফি ১,৫০০ টাকা। এই ফি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অথবা অনলাইনে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে পরিশোধ করা যায়। অনলাইন কার্ড পেমেন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জ অতিরিক্ত হতে পারে।

ট্রেজারি চালানের জন্য সরকারি পোর্টালে উল্লেখ করা কোড হলো:

১-৭৩০১-০০০১-২৬৮১

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত কোড ব্যবহার করে সোনালী ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখার মাধ্যমে ট্রেজারি চালানে ফি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পেমেন্ট করার আগে অবশ্যই অফিসিয়াল পোর্টালে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে?

আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথিগুলো স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখলে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ হয়। সরকারি পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণভাবে নিচের তথ্য ও কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

১. অনলাইন আবেদনপত্র

প্রথমে অনলাইনে আবেদনপত্র সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। নাম, ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য দেওয়ার সময় পাসপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

২. বাংলাদেশি পাসপোর্টের বায়ো ও ঠিকানার পৃষ্ঠা

বাংলাদেশ থেকে আবেদন করলে বাংলাদেশি পাসপোর্টের বায়ো এবং ঠিকানার পৃষ্ঠা স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে আবেদন করার ক্ষেত্রে এই পৃষ্ঠাগুলো প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।

৩. বিদেশ থেকে আবেদন করলে

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের বায়ো ও ঠিকানার পৃষ্ঠা সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন দ্বারা সত্যায়িত করে আপলোড করতে বলা হয়েছে।

৪. বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে

বিদেশি পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশে অবস্থানের পর বিদেশে ফিরে গিয়ে বাংলাদেশ থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে চাইলে তার পাসপোর্টের বায়ো, ঠিকানা, ভিসা এবং বাংলাদেশে প্রবেশ ও বের হওয়ার সিলযুক্ত পৃষ্ঠাগুলো প্রয়োজন হতে পারে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এসব নথি বর্তমান বসবাসের দেশের জাস্টিস অব পিস দ্বারা সত্যায়িত করার কথা বলা হয়েছে।

৫. বিদেশ থেকে আবেদনকারীর অনুমতিপত্র

বিদেশে থাকা আবেদনকারীর হয়ে অন্য কেউ সনদ সংগ্রহ করলে আবেদন করার সময় অনুমতিপত্র দিতে হবে। ওই অনুমতিপত্রে যিনি সনদ সংগ্রহ করবেন তার নাম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করার নির্দেশনা রয়েছে।

অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম

বর্তমানে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা যায়। নিচে ধাপগুলো সহজভাবে দেওয়া হলো।

ধাপ ১: অফিসিয়াল পোর্টালে প্রবেশ করুন

প্রথমে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। আবেদনকারী নিজের জন্য অথবা অন্য ব্যক্তির পক্ষেও নিবন্ধন করে আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন।

বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টালে আবেদন করুন

ধাপ ২: নতুন অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করুন

নতুন আবেদনকারীকে পোর্টালে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। মোবাইল নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য দেওয়ার সময় ভুল হলে পরবর্তী ধাপে সমস্যা হতে পারে। নিচের ছবিতে দেখানো হয়েছে সেভাবেই কাজ করুন।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট আবেদন

রেজিস্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করার পর, একটি রেজিস্ট্রেশন ফর্ম ওপেন হবে, সেখানে সকল সঠিক তথ্য দিয়ে সাবমিট করুন।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট

এর পর আপনার দেওয়া Email এ একটি ভেরিফিকেশন লিংক যাবে সেটাতে ক্লিক করে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন করে নিন। এবং তারপরে Apply বাটনে ক্লিক করে সকল step এ সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট আবেদন সম্পূর্ণ করুন। যা নিচে আমি ধাপে ধাপে উল্লেখ করেছি।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম

 

ধাপ ৩: অ্যাকাউন্টে লগইন করুন

নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করে Apply অপশনে যেতে হবে। এরপর অনলাইন আবেদনপত্রের বিভিন্ন অংশ পূরণ করতে হবে।

ধাপ ৪: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন

আবেদনপত্রের প্রথম অংশে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। নাম, পাসপোর্টের তথ্যসহ যেসব তথ্য চাওয়া হবে সেগুলো পাসপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে পূরণ করা উচিত।

ধাপ ৫: বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা দিন

পরবর্তী অংশে বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য দিতে হবে। ঠিকানা নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানার আওতাধীন জেলা বা মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্লিয়ারেন্স ইস্যু করা হয়।

ধাপ ৬: প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন

আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কোনো নথি আপলোড না করার জন্য সরকারি পোর্টালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ধাপ ৭: তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন

এই ধাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট-এর আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার আগে নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে। সরকারি পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে সাবমিট করার পর আবেদনটি আর সম্পাদনা করা যায় না।

ধাপ ৮: আবেদন ফি পরিশোধ করুন

তথ্য যাচাই করে আবেদন সাবমিট করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। সরকারি পোর্টালে বর্তমানে ১,৫০০ টাকা ফি উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রেজারি চালান অথবা অনলাইন কার্ড পেমেন্টের মাধ্যমে ফি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা কীভাবে আবেদন করবেন?

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার অনলাইন ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তাদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের সত্যায়ন এবং আবেদনকারীর অবস্থান অনুযায়ী অতিরিক্ত কিছু নথির প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলাদেশের বাইরে থেকে আবেদন করলে পাসপোর্টের বায়ো ও ঠিকানার পৃষ্ঠা বাংলাদেশ হাইকমিশন দ্বারা সত্যায়িত করে আপলোড করার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে অন্য কেউ সনদ সংগ্রহ করলে অনুমতিপত্র দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

আরো পড়ুনঃ 

একটি NID দিয়ে কয়টি SIM রেজিস্ট্রেশন করা আছে জানবেন যেভাবে

কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে যাওয়ার পর এমন পাসপোর্ট ব্যবহার করেন যা বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে ইস্যু বা পুনরায় ইস্যু করা হয়েছে, তাহলে বাংলাদেশে প্রবেশের সর্বশেষ সিলযুক্ত পৃষ্ঠার স্ক্যান কপিও প্রয়োজন হতে পারে।

আবেদনের পর পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের অবস্থা কীভাবে দেখবেন?

আবেদন করার পর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানার জন্য সরকারি পোর্টালে এসএমএসের একটি ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। আবেদন রেফারেন্স নম্বর ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এসএমএস পাঠালে ফিরতি বার্তায় আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানা যায়।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্ট্যাটাস জানতে:

PCC S <আপনার Application Reference Number>

এই ফরম্যাটে ২৬৯৬৯ নম্বরে এসএমএস পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে গিয়ে যেসব ভুল এড়াবেন

  • পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে মিল না রেখে আবেদনপত্র পূরণ করবেন না।
  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন।
  • প্রয়োজনীয় নথির পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় ফাইল আপলোড করবেন না।
  • স্ক্যান করা কাগজপত্র অস্পষ্ট হলে আপলোড করার আগে আবার পরীক্ষা করুন।
  • আবেদন চূড়ান্তভাবে সাবমিট করার আগে সব তথ্য পুনরায় যাচাই করুন।
  • পেমেন্ট করার আগে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি ও নির্দেশনা মিলিয়ে নিন।
  • বিদেশে থাকলে পাসপোর্ট সত্যায়ন এবং অনুমতিপত্রের প্রয়োজনীয়তা আগে থেকেই জেনে নিন।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পেতে কতদিন লাগে?

অনেক আবেদনকারী জানতে চান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পেতে ঠিক কতদিন সময় লাগে। বাস্তবে আবেদন যাচাই, ঠিকানা, সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রক্রিয়ার সময় নির্ভর করতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময়কে সবার জন্য একই ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সরকারি পোর্টালে দেওয়া স্ট্যাটাস যাচাইয়ের ব্যবস্থা ব্যবহার করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ক্লিয়ারেন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

বাংলাদেশে চাকরির জন্য কি অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করা যায়?

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশে চাকরি বা অন্য কোনো কাজের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জেলা ডিএসবি অফিস অথবা মহানগর এলাকার ক্ষেত্রে সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

অর্থাৎ বিদেশে যাওয়া বা বিদেশে অবস্থানের জন্য ব্যবহৃত অনলাইন ব্যবস্থাকে দেশের ভেতরের প্রতিটি চাকরির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট আবেদনের আগে চেকলিস্ট

  • পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৩ মাস আছে কি না দেখুন।
  • পাসপোর্টের নাম ও অন্যান্য তথ্য সঠিক আছে কি না যাচাই করুন।
  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা প্রস্তুত রাখুন।
  • প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট পৃষ্ঠার স্ক্যান কপি তৈরি করুন।
  • প্রয়োজন হলে নথিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যায়িত করুন।
  • ১,৫০০ টাকা আবেদন ফি দেওয়ার প্রস্তুতি রাখুন।
  • চূড়ান্ত সাবমিটের আগে পুরো আবেদন আবার পড়ে দেখুন।
  • আবেদন রেফারেন্স নম্বর সংরক্ষণ করুন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের বর্তমান ফি কত?

সরকারি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টালে বর্তমানে আবেদন ফি ১,৫০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইন কার্ড পেমেন্ট করলে প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জ অতিরিক্ত হতে পারে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ কত থাকতে হবে?

সরকারি পোর্টালের শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৩ মাস থাকতে হবে।

আবেদন সাবমিট করার পর তথ্য পরিবর্তন করা যাবে?

না। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদন চূড়ান্তভাবে সাবমিট করার পর সেটি সম্পাদনা করা যায় না। তাই সাবমিটের আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

বিদেশ থেকে আবেদন করা যায়?

হ্যাঁ। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে পাসপোর্টের নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা বাংলাদেশ হাইকমিশন দ্বারা সত্যায়িত করার শর্ত থাকতে পারে।

অন্য কেউ কি আবেদনকারীর হয়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন?

বিদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অন্য কেউ সংগ্রহ করলে অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা রয়েছে। অনুমতিপত্রে সংগ্রহকারীর নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করার নির্দেশনা রয়েছে।

আবেদনের অবস্থা কীভাবে জানা যাবে?

আবেদন রেফারেন্স নম্বর ব্যবহার করে সরকারি নির্দেশিত এসএমএস পদ্ধতিতে ২৬৯৬৯ নম্বরে স্ট্যাটাস জানা যায়।

মোট কথা

বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হতে পারে। তবে আবেদন করার সময় শুধু ফি জানা যথেষ্ট নয়; পাসপোর্টের মেয়াদ, ঠিকানার তথ্য, নথি সত্যায়ন এবং আবেদনপত্রের তথ্য সঠিকভাবে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চূড়ান্ত সাবমিটের পর আবেদন সম্পাদনা করা যায় না বলে সাবমিটের আগে প্রতিটি তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।

এই পোস্টে দেওয়া তথ্য বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টালে প্রকাশিত নির্দেশনার ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম, ফি এবং পোর্টালের নির্দেশনা আবার দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সর্বশেষ হালনাগাদ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অফিসিয়াল উৎস: বাংলাদেশ পুলিশ — Police Clearance Certificate Portal

অফিসিয়াল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টাল


Spread the love
Telegram chanel Join our Telegram channel
Join
LekhokBD.me

আমি রিফাত, LekhokBD.me এর প্রতিষ্ঠাতা। আমি পেশায় একজন ছাত্র, বর্তমানে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত রয়েছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি,বাংলাদেশের নাগরিক সেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে LekhokBD তে সহজ ভাবে তুলে ধরে, মানুষের কাছে তথ্যকে সহজলভ্য করাই আমার মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment