এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ: বাছাই করা সেরা 50টি এম সি কিউ

Table of contents
Telegram chanel Join our Telegram channel
Join
Spread the love

রসায়ন বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে শুধু বই পড়লেই হয় না, নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের ধারণা যাচাই করাও জরুরি। বিশেষ করে বহুনির্বাচনি প্রশ্নে অল্প সময়ের মধ্যে সঠিক উত্তর বেছে নিতে হলে মৌল, যৌগ, পরমাণুর গঠন, রাসায়নিক বন্ধন, পর্যায় সারণি, রাসায়নিক বিক্রিয়া, অম্ল-ক্ষার, জৈব রসায়নসহ বিভিন্ন অধ্যায়ের মৌলিক ধারণা পরিষ্কার থাকা দরকার।

এই লেখায় শিক্ষার্থীদের অনুশীলনের সুবিধার জন্য বাছাই করা ৫০টি এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে শুধু মুখস্থ না করে ধারণা বুঝে উত্তর দেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়। প্রতিটি প্রশ্নের চারটি বিকল্পের সঙ্গে সঠিক উত্তর এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।

এখানে থাকা এসএসসি রসায়ন এমসিকিউগুলো কোনো নির্দিষ্ট বছরের প্রশ্নপত্রের অনুলিপি নয়। এগুলো রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনুশীলনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই শিক্ষার্থী চাইলে ক্লাসের পড়া শেষ করার পর, মডেল টেস্টের আগে অথবা নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার সময় এগুলো ব্যবহার করতে পারে।

এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ অনুশীলন করার সঠিক পদ্ধতি

অনেক শিক্ষার্থী MCQ পড়ার সময় প্রথমে উত্তর দেখে নেয়। এতে প্রশ্নটি পরিচিত মনে হলেও পরীক্ষার সময় নতুনভাবে প্রশ্ন এলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ অনুশীলনের সময় প্রথমে প্রশ্ন পড়ে নিজে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। এরপর সঠিক উত্তর মিলিয়ে দেখুন। ভুল হলে কেন ভুল হয়েছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন।

এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ

আরেকটি কার্যকর পদ্ধতি হলো ভুল হওয়া প্রশ্নগুলো আলাদা করে নোট করা। একই ধরনের ভুল বারবার হলে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের বইয়ের অংশ আবার পড়ুন। এতে শুধু MCQ সমাধানের দক্ষতা নয়, রসায়নের মূল ধারণাও শক্তিশালী হবে।

বাছাই করা ৫০টি এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ

১. পরমাণু ও মৌল সম্পর্কিত প্রশ্ন

১. পরমাণুর কেন্দ্রকে কী বলা হয়?

  • ক) কক্ষপথ
  • খ) নিউক্লিয়াস
  • গ) শক্তিস্তর
  • ঘ) ইলেকট্রন মেঘ

উত্তর: খ) নিউক্লিয়াস

ব্যাখ্যা: পরমাণুর কেন্দ্রে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। এই কেন্দ্রীয় অংশকে নিউক্লিয়াস বা পরমাণুর কেন্দ্রক বলা হয়।

২. একটি নিরপেক্ষ পরমাণুতে প্রোটনের সংখ্যা ও ইলেকট্রনের সংখ্যার সম্পর্ক কী?

  • ক) প্রোটন বেশি
  • খ) ইলেকট্রন বেশি
  • গ) সমান
  • ঘ) সবসময় দ্বিগুণ

উত্তর: গ) সমান

ব্যাখ্যা: নিরপেক্ষ পরমাণুতে ধনাত্মক আধানের পরিমাণ ও ঋণাত্মক আধানের পরিমাণ সমান থাকে। তাই প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যাও সমান।

ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষার রুটিন ২০২৬: পরীক্ষা শুরু ২০ সেপ্টেম্বর ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষার রুটিন ২০২৬: পরীক্ষা শুরু ২০ সেপ্টেম্বর Exam & Results August 19, 2026

৩. পারমাণবিক সংখ্যা দ্বারা কী বোঝায়?

  • ক) নিউট্রনের সংখ্যা
  • খ) প্রোটনের সংখ্যা
  • গ) প্রোটন ও নিউট্রনের যোগফল
  • ঘ) ইলেকট্রন ও নিউট্রনের যোগফল

উত্তর: খ) প্রোটনের সংখ্যা

ব্যাখ্যা: কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটনের সংখ্যাই তার পারমাণবিক সংখ্যা। নিরপেক্ষ পরমাণুর ক্ষেত্রে এটি ইলেকট্রনের সংখ্যারও সমান।

৪. ভরসংখ্যা কীসের সমষ্টি?

  • ক) প্রোটন ও ইলেকট্রন
  • খ) ইলেকট্রন ও নিউট্রন
  • গ) প্রোটন ও নিউট্রন
  • ঘ) শুধু নিউট্রন

উত্তর: গ) প্রোটন ও নিউট্রন

ব্যাখ্যা: নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ভরসংখ্যা বলা হয়। ইলেকট্রনের ভর তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত কম হওয়ায় ভরসংখ্যায় তা গণনা করা হয় না।

৫. ইলেকট্রনের আধান কেমন?

  • ক) ধনাত্মক
  • খ) ঋণাত্মক
  • গ) নিরপেক্ষ
  • ঘ) পরিবর্তনশীল

উত্তর: খ) ঋণাত্মক

ব্যাখ্যা: ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত একটি মৌলিক কণা। প্রোটন ধনাত্মক এবং নিউট্রন বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ।

২. পর্যায় সারণি ও মৌলের ধর্ম

৬. আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কয়টি পর্যায় রয়েছে?

  • ক) ৬টি
  • খ) ৭টি
  • গ) ৮টি
  • ঘ) ৯টি

উত্তর: খ) ৭টি

ব্যাখ্যা: আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট সাতটি পর্যায় এবং আঠারোটি গ্রুপ রয়েছে।

৭. পর্যায় সারণিতে একই গ্রুপের মৌলগুলোর মধ্যে সাধারণত কী মিল থাকে?

  • ক) সবগুলোর ভর সমান
  • খ) রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য
  • গ) নিউট্রনের সংখ্যা সমান
  • ঘ) সবগুলোর রং সমান

উত্তর: খ) রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য

ব্যাখ্যা: একই গ্রুপের মৌলগুলোর বহিঃস্থ শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাসে মিল থাকায় তাদের রাসায়নিক ধর্মে অনেক সাদৃশ্য দেখা যায়।

৮. নিষ্ক্রিয় গ্যাস কোন গ্রুপে অবস্থান করে?

  • ক) গ্রুপ ১
  • খ) গ্রুপ ২
  • গ) গ্রুপ ১৭
  • ঘ) গ্রুপ ১৮

উত্তর: ঘ) গ্রুপ ১৮

ব্যাখ্যা: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গনসহ নিষ্ক্রিয় বা মহৎ গ্যাসগুলো আধুনিক পর্যায় সারণির ১৮ নম্বর গ্রুপে অবস্থিত।

৯. হ্যালোজেন মৌলগুলো কোন গ্রুপে?

  • ক) ১
  • খ) ২
  • গ) ১৭
  • ঘ) ১৮

উত্তর: গ) ১৭

ব্যাখ্যা: ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন ও আয়োডিনসহ হ্যালোজেন মৌলগুলো গ্রুপ ১৭-তে অবস্থান করে।

১০. সোডিয়ামের প্রতীক কোনটি?

  • ক) S
  • খ) So
  • গ) Na
  • ঘ) N

উত্তর: গ) Na

ব্যাখ্যা: সোডিয়ামের রাসায়নিক প্রতীক Na, যা এর ল্যাটিন নাম Natrium থেকে এসেছে।

৩. রাসায়নিক বন্ধন

১১. ইলেকট্রন গ্রহণ বা বর্জনের মাধ্যমে কোন ধরনের বন্ধন তৈরি হতে পারে?

  • ক) আয়নিক বন্ধন
  • খ) ধাতব বন্ধন
  • গ) হাইড্রোজেন বন্ধন
  • ঘ) কোনো বন্ধন নয়

উত্তর: ক) আয়নিক বন্ধন

ব্যাখ্যা: একটি পরমাণু থেকে অন্য পরমাণুতে ইলেকট্রন স্থানান্তরের ফলে ধনায়ন ও ঋণায়ন তৈরি হয় এবং তাদের মধ্যে তড়িৎ আকর্ষণে আয়নিক বন্ধন গঠিত হয়।

১২. NaCl-এ কোন ধরনের বন্ধন রয়েছে?

  • ক) সমযোজী
  • খ) আয়নিক
  • গ) ধাতব
  • ঘ) হাইড্রোজেন

উত্তর: খ) আয়নিক

ব্যাখ্যা: সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Na⁺ এবং ক্লোরিন সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl⁻ তৈরি করে। বিপরীত আধানের এই আয়নগুলোর আকর্ষণে NaCl গঠিত হয়।

১৩. H₂ অণুতে কী ধরনের বন্ধন থাকে?

  • ক) আয়নিক
  • খ) সমযোজী
  • গ) ধাতব
  • ঘ) কোনো বন্ধন নেই

উত্তর: খ) সমযোজী

ব্যাখ্যা: দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ইলেকট্রন যুগল ভাগাভাগি করে H₂ অণু তৈরি করে। তাই এখানে সমযোজী বন্ধন রয়েছে।

১৪. সমযোজী বন্ধনে সাধারণত কী ঘটে?

  • ক) ইলেকট্রন সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়
  • খ) ইলেকট্রন ভাগাভাগি হয়
  • গ) নিউট্রন ভাগাভাগি হয়
  • ঘ) প্রোটন স্থানান্তরিত হয়

উত্তর: খ) ইলেকট্রন ভাগাভাগি হয়

ব্যাখ্যা: সমযোজী বন্ধনে দুটি পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রন যুগল যৌথভাবে ব্যবহার করে স্থিতিশীলতা অর্জন করে।

১৫. MgO যৌগে প্রধানত কোন ধরনের বন্ধন দেখা যায়?

  • ক) আয়নিক
  • খ) সমযোজী
  • গ) ধাতব
  • ঘ) হাইড্রোজেন

উত্তর: ক) আয়নিক

ব্যাখ্যা: ম্যাগনেসিয়াম ইলেকট্রন ত্যাগ করে Mg²⁺ এবং অক্সিজেন ইলেকট্রন গ্রহণ করে O²⁻ গঠন করে। এদের মধ্যে তড়িৎ আকর্ষণের ফলে MgO তৈরি হয়।

৪. রাসায়নিক বিক্রিয়া

১৬. রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন পদার্থ তৈরি হওয়াকে কী বোঝায়?

  • ক) রাসায়নিক পরিবর্তন
  • খ) ভৌত পরিবর্তন
  • গ) দ্রবণ
  • ঘ) পরিস্রবণ

উত্তর: ক) রাসায়নিক পরিবর্তন

ব্যাখ্যা: কোনো পরিবর্তনের ফলে নতুন ধর্মবিশিষ্ট নতুন পদার্থ তৈরি হলে সেটি রাসায়নিক পরিবর্তন।

১৭. CaCO₃ উত্তপ্ত করলে প্রধানত কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়?

  • ক) অক্সিজেন
  • খ) হাইড্রোজেন
  • গ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  • ঘ) নাইট্রোজেন

উত্তর: গ) কার্বন ডাই-অক্সাইড

ব্যাখ্যা: ক্যালসিয়াম কার্বনেট উত্তপ্ত করলে ক্যালসিয়াম অক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়।

১৮. যে বিক্রিয়ায় তাপ নির্গত হয় তাকে কী বলে?

  • ক) তাপগ্রাহী বিক্রিয়া
  • খ) তাপউৎপাদী বিক্রিয়া
  • গ) বিয়োজন নয়
  • ঘ) ভৌত পরিবর্তন

উত্তর: খ) তাপউৎপাদী বিক্রিয়া

ব্যাখ্যা: যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরিবেশে তাপ নির্গত হয় তাকে তাপউৎপাদী বা Exothermic reaction বলা হয়।

১৯. একটি যৌগ ভেঙে একাধিক পদার্থে পরিণত হলে সেটি কোন ধরনের বিক্রিয়া?

  • ক) সংযোজন
  • খ) বিয়োজন
  • গ) প্রতিস্থাপন
  • ঘ) নিরপেক্ষকরণ

উত্তর: খ) বিয়োজন

ব্যাখ্যা: একটি যৌগ ভেঙে দুই বা ততোধিক সরল পদার্থ বা যৌগ তৈরি হলে তাকে বিয়োজন বিক্রিয়া বলা হয়।

২০. অক্সিজেনের উপস্থিতিতে কোনো পদার্থের দ্রুত বিক্রিয়াকে সাধারণভাবে কী বলা হয়?

  • ক) দহন
  • খ) দ্রবণ
  • গ) পাতন
  • ঘ) পরিস্রবণ

উত্তর: ক) দহন

ব্যাখ্যা: অক্সিজেনের সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়ার ফলে সাধারণত তাপ এবং অনেক ক্ষেত্রে আলো উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়াকে দহন বলা হয়।

৫. অম্ল, ক্ষার ও লবণ

২১. অম্লের জলীয় দ্রবণে কোন আয়নের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়?

  • ক) H⁺
  • খ) OH⁻
  • গ) Na⁺
  • ঘ) Cl⁻

উত্তর: ক) H⁺

ব্যাখ্যা: Arrhenius ধারণা অনুযায়ী জলীয় দ্রবণে অম্ল H⁺ আয়নের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে।

২২. ক্ষারের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আয়ন কোনটি?

  • ক) H⁺
  • খ) OH⁻
  • গ) Cl⁻
  • ঘ) Na⁺

উত্তর: খ) OH⁻

ব্যাখ্যা: জলীয় দ্রবণে ক্ষার OH⁻ আয়নের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে। তাই OH⁻ ক্ষারীয় ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক আয়ন।

২৩. নিরপেক্ষ দ্রবণের pH সাধারণত কত?

  • ক) ০
  • খ) ৫
  • গ) ৭
  • ঘ) ১৪

উত্তর: গ) ৭

ব্যাখ্যা: সাধারণ জলীয় পরিবেশে ২৫°C তাপমাত্রায় নিরপেক্ষ দ্রবণের pH ৭ ধরা হয়।

২৪. অম্ল ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় সাধারণত কী তৈরি হয়?

  • ক) শুধু পানি
  • খ) লবণ ও পানি
  • গ) শুধু গ্যাস
  • ঘ) ধাতু ও গ্যাস

উত্তর: খ) লবণ ও পানি

ব্যাখ্যা: অম্ল ও ক্ষারের পারস্পরিক বিক্রিয়াকে নিরপেক্ষকরণ বিক্রিয়া বলা হয়। সাধারণভাবে এতে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

২৫. লিটমাস কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

  • ক) তাপমাত্রা মাপতে
  • খ) অম্ল-ক্ষার শনাক্ত করতে
  • গ) ভর মাপতে
  • ঘ) চাপ মাপতে

উত্তর: খ) অম্ল-ক্ষার শনাক্ত করতে

ব্যাখ্যা: লিটমাস একটি নির্দেশক। অম্লীয় ও ক্ষারীয় পরিবেশে এর রঙের পরিবর্তন ঘটে বলে দ্রবণের প্রকৃতি শনাক্ত করতে এটি ব্যবহার করা যায়।

৬. গ্যাস ও রাসায়নিক সূত্র

২৬. পানির রাসায়নিক সংকেত কোনটি?

  • ক) CO₂
  • খ) H₂O
  • গ) O₂
  • ঘ) H₂O₂

উত্তর: খ) H₂O

ব্যাখ্যা: একটি পানির অণুতে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে। তাই এর সংকেত H₂O।

২৭. কার্বন ডাই-অক্সাইডের সংকেত কোনটি?

  • ক) CO
  • খ) C₂O
  • গ) CO₂
  • ঘ) C₂O₂

উত্তর: গ) CO₂

ব্যাখ্যা: একটি কার্বন পরমাণুর সঙ্গে দুটি অক্সিজেন পরমাণু যুক্ত হয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু গঠন করে।

২৮. অক্সিজেন গ্যাসের অণুতে কয়টি অক্সিজেন পরমাণু থাকে?

  • ক) ১টি
  • খ) ২টি
  • গ) ৩টি
  • ঘ) ৪টি

উত্তর: খ) ২টি

ব্যাখ্যা: সাধারণ অক্সিজেন গ্যাস দ্বিপরমাণুক অণু হিসেবে O₂ আকারে থাকে।

২৯. হাইড্রোজেন গ্যাসের সংকেত কোনটি?

  • ক) H
  • খ) H₂
  • গ) H₃
  • ঘ) He

উত্তর: খ) H₂

ব্যাখ্যা: সাধারণ অবস্থায় হাইড্রোজেন গ্যাস দ্বিপরমাণুক অণু হিসেবে H₂ আকারে থাকে।

৩০. নাইট্রোজেন গ্যাস সাধারণত কোন আকারে থাকে?

  • ক) N
  • খ) N₂
  • গ) N₃
  • ঘ) NO₂

উত্তর: খ) N₂

ব্যাখ্যা: বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন মূলত দ্বিপরমাণুক N₂ অণু হিসেবে উপস্থিত থাকে।

৭. জারণ-বিজারণ ও তড়িৎ রসায়ন

৩১. জারণের সঙ্গে কোনটি সম্পর্কিত?

  • ক) ইলেকট্রন গ্রহণ
  • খ) ইলেকট্রন বর্জন
  • গ) নিউট্রন গ্রহণ
  • ঘ) প্রোটন সৃষ্টি

উত্তর: খ) ইলেকট্রন বর্জন

ব্যাখ্যা: আধুনিক ধারণা অনুযায়ী কোনো প্রজাতি ইলেকট্রন ত্যাগ করলে তার জারণ ঘটে। অন্যদিকে ইলেকট্রন গ্রহণকে বিজারণ বলা হয়।

৩২. বিজারণের ক্ষেত্রে কী ঘটে?

  • ক) ইলেকট্রন গ্রহণ
  • খ) ইলেকট্রন বর্জন
  • গ) শুধু তাপ উৎপন্ন
  • ঘ) নিউট্রন বর্জন

উত্তর: ক) ইলেকট্রন গ্রহণ

ব্যাখ্যা: কোনো পরমাণু বা আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করলে তার বিজারণ ঘটে। জারণ ও বিজারণ সাধারণত একই রেডক্স প্রক্রিয়ার দুটি পরস্পর সম্পর্কিত অংশ।

৩৩. ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?

  • ক) শব্দ শক্তি
  • খ) বৈদ্যুতিক শক্তি
  • গ) আলোক শক্তি
  • ঘ) পারমাণবিক শক্তি

উত্তর: খ) বৈদ্যুতিক শক্তি

ব্যাখ্যা: বৈদ্যুতিক কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

৩৪. তড়িৎ বিশ্লেষণে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কী করা হয়?

  • ক) রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটানো
  • খ) শুধু পানি গরম করা
  • গ) চাপ কমানো
  • ঘ) ভর কমানো

উত্তর: ক) রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটানো

ব্যাখ্যা: তড়িৎ বিশ্লেষণে বাহ্যিক বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে স্বতঃস্ফূর্ত নয় এমন রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটানো হয়।

৩৫. ক্যাথোডে কী ধরনের প্রক্রিয়া ঘটে?

  • ক) জারণ
  • খ) বিজারণ
  • গ) দহন
  • ঘ) বাষ্পীভবন

উত্তর: খ) বিজারণ

ব্যাখ্যা: ক্যাথোডে বিজারণ ঘটে, অর্থাৎ সেখানে ইলেকট্রন গ্রহণের প্রক্রিয়া হয়।

৮. জৈব রসায়নের মৌলিক ধারণা

৩৬. জৈব যৌগের প্রধান উপাদান কোনটি?

  • ক) কার্বন
  • খ) সোডিয়াম
  • গ) লোহা
  • ঘ) ক্যালসিয়াম

উত্তর: ক) কার্বন

ব্যাখ্যা: অধিকাংশ জৈব যৌগের কাঠামোর প্রধান মৌল হলো কার্বন। কার্বনের বিশেষ বন্ধন ক্ষমতার কারণে বিপুল সংখ্যক জৈব যৌগ গঠিত হয়।

৩৭. মিথেনের রাসায়নিক সংকেত কোনটি?

  • ক) CH₄
  • খ) C₂H₆
  • গ) C₂H₄
  • ঘ) CH₃OH

উত্তর: ক) CH₄

ব্যাখ্যা: মিথেন হলো সবচেয়ে সরল অ্যালকেন এবং এর একটি কার্বন পরমাণুর সঙ্গে চারটি হাইড্রোজেন পরমাণু যুক্ত থাকে।

৩৮. অ্যালকেনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য কী?

  • ক) শুধু একক বন্ধন থাকে
  • খ) সবসময় দ্বিবন্ধন থাকে
  • গ) সবসময় ত্রিবন্ধন থাকে
  • ঘ) কোনো কার্বন থাকে না

উত্তর: ক) শুধু একক বন্ধন থাকে

ব্যাখ্যা: অ্যালকেন হলো সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন। এতে কার্বন-কার্বনের মধ্যে একক সমযোজী বন্ধন থাকে।

৩৯. ইথিনের সংকেত কোনটি?

  • ক) CH₄
  • খ) C₂H₆
  • গ) C₂H₄
  • ঘ) C₂H₂

উত্তর: গ) C₂H₄

ব্যাখ্যা: ইথিন একটি অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন এবং এতে দুটি কার্বনের মধ্যে একটি দ্বিবন্ধন থাকে। এর সংকেত C₂H₄।

৪০. ইথানলের সংকেত কোনটি?

  • ক) CH₄
  • খ) C₂H₅OH
  • গ) CH₃COOH
  • ঘ) C₂H₄

উত্তর: খ) C₂H₅OH

ব্যাখ্যা: ইথানল একটি অ্যালকোহল। এর আণবিক সংকেত C₂H₆O এবং প্রচলিত গাঠনিক সংকেত C₂H₅OH।

৯. দৈনন্দিন জীবনে রসায়ন

৪১. খাবার সংরক্ষণে লবণ ব্যবহারের একটি প্রধান কারণ কী?

  • ক) খাবারকে মিষ্টি করা
  • খ) জীবাণুর বৃদ্ধি কমানো
  • গ) খাবারের রং পরিবর্তন করা
  • ঘ) খাবারের ভর বাড়ানো

উত্তর: খ) জীবাণুর বৃদ্ধি কমানো

ব্যাখ্যা: উপযুক্ত মাত্রায় লবণ খাবারের জলীয় পরিবেশ পরিবর্তন করে এবং অনেক অণুজীবের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করতে সাহায্য করে।

৪২. সাবান ও ডিটারজেন্টের প্রধান ব্যবহার কী?

  • ক) ধাতু তৈরি
  • খ) পরিষ্কার করা
  • গ) গ্যাস উৎপন্ন করা
  • ঘ) পানি জমাট বাঁধানো

উত্তর: খ) পরিষ্কার করা

ব্যাখ্যা: সাবান ও ডিটারজেন্ট পানিতে তেল-চর্বিজাতীয় ময়লা অপসারণে সাহায্য করে। তাদের অণুর বিশেষ গঠনের কারণে ময়লা পানির সঙ্গে সহজে সরানো যায়।

৪৩. বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত কোনটি?

  • ক) NaCl
  • খ) NaHCO₃
  • গ) NaOH
  • ঘ) CaCO₃

উত্তর: খ) NaHCO₃

ব্যাখ্যা: বেকিং সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট বা সোডিয়াম বাইকার্বনেট এবং এর সংকেত NaHCO₃।

৪৪. চুনাপাথরের প্রধান উপাদান কোনটি?

  • ক) NaCl
  • খ) CaCO₃
  • গ) KCl
  • ঘ) H₂SO₄

উত্তর: খ) CaCO₃

ব্যাখ্যা: চুনাপাথরের প্রধান রাসায়নিক উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট বা CaCO₃।

৪৫. মরিচা পড়ার সঙ্গে কোন দুটি বিষয় বিশেষভাবে জড়িত?

  • ক) অক্সিজেন ও পানি
  • খ) নাইট্রোজেন ও হিলিয়াম
  • গ) শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইড
  • ঘ) শুধু হাইড্রোজেন

উত্তর: ক) অক্সিজেন ও পানি

ব্যাখ্যা: লোহার মরিচা পড়ার জন্য অক্সিজেন ও পানির উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশের আর্দ্রতা বেশি হলে লোহার ক্ষয় দ্রুত হতে পারে।

১০. মিশ্রণ, দ্রবণ ও পদার্থের পরিবর্তন

৪৬. দুটি বা ততোধিক পদার্থ রাসায়নিকভাবে যুক্ত না হয়ে একসঙ্গে থাকলে তাকে কী বলে?

  • ক) মৌল
  • খ) যৌগ
  • গ) মিশ্রণ
  • ঘ) পরমাণু

উত্তর: গ) মিশ্রণ

ব্যাখ্যা: দুই বা ততোধিক পদার্থ তাদের নিজস্ব ধর্ম বজায় রেখে ভৌতভাবে একত্রে থাকলে তাকে মিশ্রণ বলা হয়।

৪৭. লবণ পানিতে মিশে গেলে কী তৈরি হয়?

  • ক) দ্রবণ
  • খ) মৌল
  • গ) নতুন ধাতু
  • ঘ) গ্যাস

উত্তর: ক) দ্রবণ

ব্যাখ্যা: পানিতে লবণ দ্রবীভূত হলে সমসত্ত্ব মিশ্রণ তৈরি হয়, যাকে লবণের দ্রবণ বলা হয়। এখানে পানি দ্রাবক এবং লবণ দ্রব।

৪৮. বালি ও পানির মিশ্রণ আলাদা করার জন্য কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়?

  • ক) পরিস্রবণ
  • খ) পাতন
  • গ) ঊর্ধ্বপাতন
  • ঘ) বাষ্পীভবন মাত্র

উত্তর: ক) পরিস্রবণ

ব্যাখ্যা: বালি পানিতে অদ্রবণীয় কঠিন পদার্থ। তাই ফিল্টার বা ছাঁকনির মাধ্যমে বালি ও পানি আলাদা করা যায়।

৪৯. পানি ফুটিয়ে বাষ্পে পরিণত হওয়া কোন ধরনের পরিবর্তন?

  • ক) রাসায়নিক পরিবর্তন
  • খ) ভৌত পরিবর্তন
  • গ) রাসায়নিক বিক্রিয়া
  • ঘ) দহন

উত্তর: খ) ভৌত পরিবর্তন

ব্যাখ্যা: পানি তরল থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিবর্তিত হলেও পানির রাসায়নিক পরিচয় H₂O অপরিবর্তিত থাকে। তাই এটি ভৌত পরিবর্তন।

৫০. কোনটি একটি মৌল?

  • ক) পানি
  • খ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  • গ) অক্সিজেন
  • ঘ) কার্বন ডাই-অক্সাইড

উত্তর: গ) অক্সিজেন

ব্যাখ্যা: অক্সিজেন একটি মৌল, কারণ এটি একই ধরনের পরমাণু দ্বারা গঠিত। অন্যদিকে পানি, NaCl এবং CO₂ হলো যৌগ।

এই ৫০টি প্রশ্ন থেকে কীভাবে বেশি উপকার পাবেন?

শুধু প্রশ্ন পড়ে উত্তর মনে রাখার পরিবর্তে প্রতিটি প্রশ্নের পেছনের ধারণাটি বোঝার চেষ্টা করলে প্রস্তুতি অনেক বেশি কার্যকর হবে। এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রথমে উত্তর না দেখে নিজে সমাধান করুন। এরপর ভুল উত্তরগুলো চিহ্নিত করুন এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের বইয়ের অংশ আবার পড়ুন।

যেমন, পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যার প্রশ্নে ভুল হলে শুধু সঠিক উত্তর মুখস্থ করার দরকার নেই। বরং প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রনের পার্থক্য আবার বুঝে নিন। একইভাবে আয়নিক ও সমযোজী বন্ধনের প্রশ্নে ভুল হলে ইলেকট্রন স্থানান্তর এবং ইলেকট্রন ভাগাভাগির ধারণাটি পরিষ্কার করুন। এতে পরবর্তীতে প্রশ্নের ভাষা পরিবর্তিত হলেও উত্তর বের করা সহজ হবে।

দ্বিতীয়ত, সময় ধরে অনুশীলন করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রশ্ন নিয়ে নিজেকে একটি ছোট পরীক্ষা দিন। এতে দ্রুত প্রশ্ন পড়া, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শনাক্ত করা এবং ভুল বিকল্প বাদ দেওয়ার দক্ষতা তৈরি হবে। এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ অনুশীলনের অন্যতম উদ্দেশ্যই হলো পরীক্ষার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে অভ্যস্ত করা।

MCQ-তে ভুল কমানোর কয়েকটি কার্যকর কৌশল

  • প্রথমে প্রশ্নটি সম্পূর্ণ পড়ুন: অনেক সময় প্রশ্নের শেষ অংশেই আসল তথ্য থাকে। তাই শুধু প্রথম লাইন পড়ে উত্তর দেবেন না।
  • একক ও সংকেত খেয়াল করুন: রাসায়নিক সংকেতের ক্ষেত্রে ছোট ও বড় হাতের অক্ষরের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ।
  • দুটি কাছাকাছি বিকল্প থাকলে ধারণা যাচাই করুন: অনুমান না করে প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত মৌলিক নিয়ম মনে করুন।
  • ভুল প্রশ্ন আলাদা করুন: যে প্রশ্নগুলো ভুল হয়েছে, সেগুলোর একটি ছোট তালিকা তৈরি করুন।
  • মুখস্থের পাশাপাশি কারণ বুঝুন: কারণ জানা থাকলে নতুনভাবে প্রশ্ন এলেও উত্তর দেওয়া সহজ হয়।
  • একই প্রশ্ন বারবার না দেখে নতুন প্রশ্ন অনুশীলন করুন: এতে বাস্তব প্রস্তুতি বেশি ভালোভাবে যাচাই করা যায়।

বিশেষ করে পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ সমাধান করার পাশাপাশি সৃজনশীল বা লিখিত অংশের জন্যও একই অধ্যায়ের মূল ধারণা পড়ে নেওয়া উচিত। কারণ MCQ ও লিখিত প্রশ্ন আলাদা মনে হলেও উভয়ের ভিত্তি হলো বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা।

কোন বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়বেন?

রসায়নে ভালো প্রস্তুতির জন্য কোনো একটি অধ্যায় বাদ দিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। তবে নিজের পাঠ্যবইয়ের অধ্যায়গুলো থেকে মৌলিক সংজ্ঞা, রাসায়নিক সংকেত, পারমাণবিক সংখ্যা, ইলেকট্রন বিন্যাস, পর্যায় সারণির অবস্থান, রাসায়নিক বন্ধন, বিক্রিয়ার ধরন, অম্ল-ক্ষার, লবণ, জারণ-বিজারণ, জৈব যৌগ এবং দৈনন্দিন জীবনের রাসায়নিক প্রয়োগ ভালোভাবে বুঝে নেওয়া উপকারী।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: জ্যামিতির গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি প্রশ্ন ও উত্তর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: জ্যামিতির গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি প্রশ্ন ও উত্তর PSC August 19, 2026

একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—MCQ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শুধু গাইড বা প্রশ্নব্যাংকের ওপর নির্ভর করলে অনেক সময় ধারণাগত দুর্বলতা থেকে যেতে পারে। তাই প্রথমে পাঠ্যবই পড়ুন, তারপর এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ দিয়ে নিজের বোঝাপড়া যাচাই করুন। এই পদ্ধতিতে পড়লে একই বিষয় থেকে ভিন্নভাবে প্রশ্ন এলেও উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

নিজেকে যাচাই করার ছোট্ট চ্যালেঞ্জ

এখন আবার উপরের ৫০টি প্রশ্নের উত্তর না দেখে সমাধান করুন। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর ধরে মোট ৫০ নম্বরের একটি পরীক্ষা নিতে পারেন। এরপর নিজের ফলাফল অনুযায়ী প্রস্তুতির অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন।

  • ৪১–৫০: আপনার মৌলিক ধারণা বেশ ভালো। এখন ভুল হওয়া প্রশ্নগুলো আরও গভীরভাবে দেখুন।
  • ৩১–৪০: প্রস্তুতি ভালো পর্যায়ে আছে, তবে কয়েকটি অধ্যায়ে আরও অনুশীলন দরকার।
  • ২১–৩০: গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলো আবার পড়ে নিয়মিত MCQ অনুশীলন করুন।
  • ২০ বা তার কম: হতাশ হওয়ার কিছু নেই। প্রথমে পাঠ্যবইয়ের মৌলিক বিষয়গুলো বুঝে তারপর প্রশ্ন অনুশীলন শুরু করুন।

তবে এই নম্বরকে কোনো চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি কেবল নিজের প্রস্তুতি যাচাই করার একটি সহজ পদ্ধতি। এসএসসি রসায়ন এমসিকিউতে কম নম্বর পাওয়া মানেই আপনি রসায়নে দুর্বল—এমন নয়। কোথায় ভুল হচ্ছে সেটি শনাক্ত করে আবার পড়লে উন্নতি করা সম্ভব।

শিক্ষার্থীদের জন্য শেষ কথা

রসায়নকে শুধু মুখস্থ করার বিষয় হিসেবে দেখলে অনেক প্রশ্ন কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু পরমাণুর গঠন থেকে শুরু করে রাসায়নিক বন্ধন, বিক্রিয়া, অম্ল-ক্ষার কিংবা দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ঘটনা—সবকিছুর পেছনে যুক্তি রয়েছে। সেই যুক্তি বুঝে পড়লে MCQ সমাধান অনেক সহজ হয়ে যায়।

এই এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ সেটটি তাই শুধু উত্তর মুখস্থ করার জন্য নয়; নিজের ধারণা যাচাই এবং দুর্বল বিষয় চিহ্নিত করার জন্য ব্যবহার করুন। কোনো প্রশ্ন ভুল হলে উত্তরটি দেখে পরের প্রশ্নে চলে যাওয়ার পরিবর্তে কেন ভুল হয়েছে তা খুঁজে বের করুন।

একইভাবে নিয়মিত অল্প অল্প করে অনুশীলন করলে পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত চাপ কমে যায়। প্রতিদিন কয়েকটি প্রশ্ন সমাধান করা, ভুল প্রশ্নের নোট তৈরি করা এবং পাঠ্যবইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশ পুনরায় পড়ার অভ্যাস রসায়নের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

সবশেষে মনে রাখবেন, ভালো ফলাফলের জন্য শুধু অনেক প্রশ্ন সমাধান করাই যথেষ্ট নয়। এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ সমাধানের পাশাপাশি প্রতিটি অধ্যায়ের মূল ধারণা বুঝে পড়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নের সংখ্যা নয়, আপনি কতটা বুঝে উত্তর দিতে পারছেন—সেটিই আপনার প্রস্তুতির আসল মানদণ্ড।

দ্রুত রিভিশনের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকা

  • পারমাণবিক সংখ্যা = প্রোটনের সংখ্যা
  • ভরসংখ্যা = প্রোটন + নিউট্রন
  • ইলেকট্রনের আধান = ঋণাত্মক
  • আধুনিক পর্যায় সারণিতে পর্যায় = ৭টি
  • নিষ্ক্রিয় গ্যাস = গ্রুপ ১৮
  • হ্যালোজেন = গ্রুপ ১৭
  • NaCl = আয়নিক যৌগ
  • H₂ = সমযোজী অণু
  • নিরপেক্ষ দ্রবণের pH = ৭
  • অম্লে H⁺ এবং ক্ষারে OH⁻ গুরুত্বপূর্ণ
  • পানি = H₂O
  • কার্বন ডাই-অক্সাইড = CO₂
  • মিথেন = CH₄
  • ইথিন = C₂H₄
  • ইথানল = C₂H₅OH
  • জারণ = ইলেকট্রন বর্জন
  • বিজারণ = ইলেকট্রন গ্রহণ
  • ক্যাথোডে = বিজারণ
  • বেকিং সোডা = NaHCO₃
  • চুনাপাথরের প্রধান উপাদান = CaCO₃

সারসংক্ষেপ: সঠিকভাবে অনুশীলন করলে এই ৫০টি প্রশ্ন আপনার রসায়নের মৌলিক ধারণা যাচাই করতে সাহায্য করবে। তবে এগুলোকে একমাত্র প্রস্তুতির উৎস হিসেবে ব্যবহার না করে পাঠ্যবই, শ্রেণির নোট এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য অনুশীলনের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ুন। এসএসসি রসায়ন এমসিকিউ অনুশীলনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত—প্রশ্ন দেখে দ্রুত উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি উত্তরটির পেছনের রাসায়নিক কারণটি বুঝতে পারা।


Spread the love
Telegram chanel Join our Telegram channel
Join
LekhokBD.me

আমি রিফাত, LekhokBD.me এর প্রতিষ্ঠাতা। আমি পেশায় একজন ছাত্র, বর্তমানে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত রয়েছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি,বাংলাদেশের নাগরিক সেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে LekhokBD তে সহজ ভাবে তুলে ধরে, মানুষের কাছে তথ্যকে সহজলভ্য করাই আমার মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment