এইচএসসি বা সমমান পাস করে চাকরি কিংবা নিজের কাজের সুযোগ খুঁজছেন? আপনার জন্য ভালো একটি সুযোগ সামনে এসেছে। দেশের ৬৪ জেলার কর্মপ্রত্যাশী যুবক ও যুব নারীদের জন্য বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে এবং নির্বাচিত হলে তিন মাসের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এই প্রশিক্ষণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো—প্রশিক্ষণের জন্য কোনো ভর্তি ফি দিতে হবে না। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ভাতা এবং সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও বিকালের নাশতার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণদের সনদও দেওয়া হবে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—আবেদন করলেই সরাসরি প্রশিক্ষণে সুযোগ পাওয়া যাবে না। আবেদনকারীদের বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাই আবেদন করার আগে যোগ্যতা, পরীক্ষার তারিখ এবং আবেদন করার সঠিক নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো। তো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং সঠিক পদক্ষেপ নিন।
ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণটি কারা পরিচালনা করছে?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।
প্রশিক্ষণ কবে থেকে শুরু হবে?
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রশিক্ষণ শুরু হবে ১ অক্টোবর ২০২৬ এবং চলবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। অর্থাৎ মোট তিন মাসের প্রশিক্ষণ। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে ক্লাস হবে এবং সব মিলিয়ে ৬০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
- প্রশিক্ষণ শুরু: ১ অক্টোবর ২০২৬
- প্রশিক্ষণ শেষ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬
- মেয়াদ: ৩ মাস
- প্রতিদিন ক্লাস: ৮ ঘণ্টা
- মোট প্রশিক্ষণ: ৬০০ ঘণ্টা
ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে আবেদনের যোগ্যতা
এই প্রশিক্ষণে আবেদন করার জন্য খুব বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।
- ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- বয়স ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে।
- কর্মপ্রত্যাশী যুবক ও যুব নারীরা আবেদন করতে পারবেন।
- প্রশিক্ষণে আগ্রহী প্রার্থীকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কম্পিউটার বা আইসিটি বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা এবং ইংরেজিতে দক্ষতা থাকা প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
প্রশিক্ষণে অংশ নিতে কোনো টাকা লাগবে?
না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণে ভর্তি হওয়ার জন্য কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ বা ভর্তি ফি দিতে হবে না। বরং প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ভাতা দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও বিকালের নাশতার ব্যবস্থাও থাকবে।
আরো পড়ুনঃ
তাই কেউ যদি এই প্রশিক্ষণে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নামে ব্যক্তিগতভাবে টাকা দাবি করে, তাহলে সরাসরি টাকা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করুন।
অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম ২০২৬
অনলাইনে আবেদন করার প্রক্রিয়াটি খুব কঠিন নয়। তবে ফরম পূরণের সময় তথ্য ভুল হলে পরবর্তী সময়ে সমস্যা হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে ফরম পূরণ করাই ভালো।
ধাপ ১: আবেদন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রথমে প্রশিক্ষণের নির্ধারিত অনলাইন আবেদন পেজে প্রবেশ করতে হবে। বর্তমানে প্রকাশিত আবেদন লিংক হলো:
আবেদন পেজে বর্তমানে ৮ম ব্যাচের নিবন্ধন এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষ সময় উল্লেখ করা আছে।
ধাপ ২: নিজের তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করুন
আবেদন ফরমে যে তথ্যগুলো চাওয়া হবে সেগুলো সতর্কভাবে পূরণ করুন। নাম, জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার সময় আপনার সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিল রেখে লেখা ভালো।


ধাপ ৩: মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে দিন
মোবাইল নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকুন। কারণ পরীক্ষার স্থান ও সময়সূচি এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। ভুল নম্বর দিলে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আপনার কাছে নাও পৌঁছাতে পারে।
ধাপ ৪: আবেদন সাবমিট করুন
সব তথ্য পূরণ করার পর একবার পুরো ফরমটি দেখে নিন। কোথাও ভুল থাকলে সংশোধন করে তারপর আবেদন জমা দিন। আবেদন সফলভাবে জমা হওয়ার পর আবেদনসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করুন।

ধাপ ৫: আবেদন কপি ও অ্যাডমিট কার্ড সংরক্ষণ করুন
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। আবেদন সফলভাবে জমা দেওয়ার পর আবেদনের কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে। পরীক্ষার জন্য পরে অ্যাডমিট কার্ডও ডাউনলোড করে রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট আবেদন পেজে অ্যাডমিট কার্ড সংরক্ষণ এবং পরীক্ষার সময় সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফাইলটি মোবাইলে রাখার পাশাপাশি সম্ভব হলে একটি কপি প্রিন্ট করে রাখলে আরও সুবিধা হবে।
আবেদনের শেষ সময় কত?
অনলাইনে আবেদন করা যাবে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে আবেদন লিংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং পরে আবেদন করার সুযোগ থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।
তাই শেষ দিনের কয়েক ঘণ্টা আগে আবেদন করার ঝুঁকি না নিয়ে সময় হাতে থাকতেই আবেদন সম্পন্ন করা ভালো।
লিখিত পরীক্ষা কবে?
আবেদন শেষ হওয়ার পর প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার স্থান ও সময় সবার জন্য একইভাবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বৈধ আবেদনকারীদের মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার স্থান ও সময় জানানো হবে।
মৌখিক পরীক্ষা কবে?
লিখিত পরীক্ষার পর ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার স্থান ও সময় সম্পর্কেও এসএমএসে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
পরীক্ষার দিন এসএমএসে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।
চূড়ান্ত ফলাফল কবে প্রকাশ হবে?
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমেও জানানো হবে।
প্রশিক্ষণে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
এই প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু বিনামূল্যে ক্লাস করার সুযোগই নয়, আরও কিছু সুবিধার কথা প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
- প্রশিক্ষণের জন্য কোনো ভর্তি ফি লাগবে না।
- প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে।
- প্রতিদিন সকালের নাশতা দেওয়া হবে।
- দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা থাকবে।
- বিকালের নাশতা দেওয়া হবে।
- প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ দেওয়া হবে।
উপরের সুবিধাগুলো প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে কোনো সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ এক নজরে
| বিষয় | তারিখ |
|---|---|
| আবেদনের শেষ সময় | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫৯ |
| লিখিত পরীক্ষা | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| মৌখিক পরীক্ষা | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| চূড়ান্ত তালিকা | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| প্রশিক্ষণ শুরু | ১ অক্টোবর ২০২৬ |
| প্রশিক্ষণ শেষ | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ |
আবেদন করার আগে কয়েকটি কথা
অনলাইনে আবেদন করার সময় তাড়াহুড়া না করাই ভালো। বিশেষ করে নাম, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দেওয়ার সময় ভুল হচ্ছে কি না দেখে নিন। আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদন কপি ও অ্যাডমিট কার্ড আলাদা করে সংরক্ষণ করুন।
আরো পড়ুনঃ
যুক্তরাষ্ট্রে বিনা খরচে পড়াশোনার স্কলারশিপ ফুলব্রাইট, আবেদন করার নিয়ম
আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার—এটি ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, সরাসরি চাকরির নিয়োগ নয়। প্রশিক্ষণ শেষ করলেই নির্দিষ্ট আয় বা চাকরি নিশ্চিত হবে—এমন দাবি করা ঠিক হবে না। প্রশিক্ষণ থেকে শেখা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে কাজের সুযোগ তৈরি করার বিষয়টি মূলত প্রশিক্ষণার্থীর নিজের দক্ষতা, পরিশ্রম ও বাস্তব প্রয়োগের ওপর নির্ভর করবে।
শেষ কথা
এইচএসসি পাস করে যারা ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনভিত্তিক কাজের দক্ষতা শিখতে চান, তাদের জন্য এই তিন মাসের প্রশিক্ষণটি কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণটি বিনামূল্যে হওয়া, যাতায়াত ভাতা এবং প্রশিক্ষণ শেষে সনদ পাওয়ার সুযোগ অনেকের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে।
তবে আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করুন এবং শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নির্ধারিত আবেদন পেজের তথ্য মিলিয়ে নিন। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট আবেদনের শেষ সময়—এই সময়টি যেন কোনোভাবেই মিস না হয়।
সর্বশেষ আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬
তথ্যসূত্র: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য, প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের আবেদন পেজ এবং প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।
সতর্কতা: প্রশিক্ষণের সময়সূচি, সুবিধা বা আবেদনসংক্রান্ত কোনো তথ্য পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনাই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য দেখে নিন।