এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক বৃত্তি ২০২৬: এসএসসি বা সমমান পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পদার্পণ করা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই সময়ে পড়াশোনার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার খরচও অনেকাংশে বেড়ে যায়। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী কঠোর পরিশ্রম করে ভালো ফলাফল অর্জন করা সত্ত্বেও কেবল আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যেতে বাধার সম্মুখীন হয়। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চমাধ্যমিকের ভর্তি এবং আনুষঙ্গিক বই-খাতা কেনার খরচ জোগানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
এই ধরনের অসচ্ছল অথচ অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে বিভিন্ন সামাজিক ও কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কর্মসূচির আওতায় এগিয়ে আসে সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো। শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন প্রতি বছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তাদের সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃত্তির উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রান্তিক অঞ্চল ও বিভিন্ন প্রান্তের অসচ্ছল পরিবারগুলোর শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নতুন প্রেরণা পাবে।
আপনি যদি ২০২৫ সালের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত একজন শিক্ষার্থী হন, তবে এই কার্যক্রম আপনার জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যোগ্যতা, আবেদনের সঠিক সময়সীমা এবং কীভাবে অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন—তার প্রতিটি খুঁটিনাটি নিচে সহজভাবে বুঝিয়ে বলা হলো।

এক নজরে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন বৃত্তি ২০২৬
- বৃত্তির নাম: শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন বৃত্তি ২০২৬
- আয়োজক প্রতিষ্ঠান: শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন
- কোন পরীক্ষার শিক্ষার্থী: এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী
- উত্তীর্ণ হওয়ার বছর: ২০২৫ সাল
- বর্তমানে কোন পর্যায়ে পড়তে হবে: এইচএসসি বা সমমান ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত
- আবেদনের শেষ তারিখ: ২৭ আগস্ট ২০২৬
- আবেদন পদ্ধতি: শুধুমাত্র অনলাইন (Online)
- পারিবারিক আয়ের সীমা: অভিভাবকের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা
- অনলাইন আবেদনের লিঙ্ক: বৃত্তির অনলাইন আবেদন
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন বৃত্তি ২০২৬ কারা পাবেন?
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন বৃত্তি ২০২৬ মূলতঃ দেশের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হচ্ছে। কেবল ভালো ফলাফল করলেই সবাই এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না; ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর পারিবারিক আর্থিক অবস্থাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ সালে তাদের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ সংক্রান্ত শর্তাবলী পূরণ করে সাফল্য অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে কোনো স্বীকৃত কলেজে বা মাদ্রাসায় এইচএসসি বা সমমান শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন, তারা মূলত এই বৃত্তির আওতায় আসবেন।
এছাড়া, গ্রামীণ এলাকা ও শহরের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা ফলাফলের মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে গ্রাম ও শহরের বৈষম্য দূর করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে। তবে কোনো শিক্ষার্থী যদি অন্যান্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি উৎস থেকে ইতিমধ্যেই আর্থিক সহযোগিতা বা বৃত্তি পেয়ে থাকেন, তবে তাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে না। মূলত আর্থিক সংকট ও ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই প্রকৃতদের নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে।
আবেদনের যোগ্যতা
এই বৃত্তির জন্য আবেদন পাঠাতে হলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত একাডেমিক জিপিএ এবং পারিবারিক আয়ের শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং অধ্যয়নের বিভাগের ওপর ভিত্তি করে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতায় পার্থক্য রাখা হয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য শর্তগুলো নিচে দুটি ভাগে তুলে ধরা হলো:
১. বিভাগীয় শহর বা সিটি করপোরেশন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
যেসব শিক্ষার্থী কোনো বিভাগীয় শহর বা সিটি করপোরেশন এলাকার আওতাধীন কোনো স্কুল বা মাদ্রাসা থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা নিম্নরূপ:
- বিজ্ঞান বিভাগ: বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ ৫.০০ (GPA 5.00) থাকতে হবে।
- অন্যান্য বিভাগ (মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা): ব্যবসায় শিক্ষা বা মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম জিপিএ ৪.৮০ থাকতে হবে।
২. সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
গ্রাম, উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের (যেগুলো সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত নয়) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম জিপিএ শিথিল করা হয়েছে:
- বিজ্ঞান বিভাগ: সিটি করপোরেশনের বাইরের স্কুল বা মাদ্রাসা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণদের ন্যূনতম জিপিএ ৪.৮০ থাকতে হবে।
- অন্যান্য বিভাগ (মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা): মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ ৪.৫০ থাকতে হবে।
৩. পারিবারিক আয়ের সীমা
একাডেমিক জিপিএ অর্জনের পাশাপাশি আবেদনকারীর পারিবারিক বার্ষিক আয়ের ওপর কঠোর শর্ত প্রযোজ্য। আবেদনকারী শিক্ষার্থীর পিতা, মাতা বা আইনগত অভিভাবকের সর্বসাকুল্যে বার্ষিক আয় ২ (দুই) লাখ টাকার বেশি হলে সেই আবেদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এটি মূলত অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬: কারা পাবেন, কত টাকা ও আবেদন পদ্ধতি | DBBL Scholarship 2026
আবেদনের জিপিএ যোগ্যতা সম্পর্কিত সারসংক্ষেপ টেবিল
সহজে বোঝার জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভাগ এবং প্রয়োজনীয় জিপিএ এর মানদণ্ড নিচে ছক আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান | অধ্যয়নরত বিভাগ | ন্যূনতম জিপিএ (GPA) |
|---|---|---|
| বিভাগীয় শহর / সিটি করপোরেশন এলাকা | বিজ্ঞান বিভাগ | ৫.০০ |
| বিভাগীয় শহর / সিটি করপোরেশন এলাকা | মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা (অন্যান্য) | ৪.৮০ |
| সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে (জেলা/উপজেলা/গ্রাম) | বিজ্ঞান বিভাগ | ৪.৮০ |
| সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে (জেলা/উপজেলা/গ্রাম) | মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা (অন্যান্য) | ৪.৫০ |
কারা আবেদন করতে পারবেন না?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড রয়েছে, যেগুলো পূরণ করতে না পারলে আবেদন সম্পূর্ণ অকার্যকর বা বাতিল বলে গণ্য হবে। বিভ্রান্তি এড়াতে আবেদন করার আগে দেখে নিন কোন কোন ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণ করা হবে না:
- নির্ধারিত ন্যূনতম জিপিএ-র চেয়ে কম ফলাফল থাকলে আবেদন করা যাবে না।
- যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ সালের আগে বা পরে এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা আবেদন করার যোগ্য নন। শুধুমাত্র ২০২৫ সালে পাশ করা শিক্ষার্থীরাই আবেদনের সুযোগ পাবেন।
- ২০২৫ সালে পাস করলেও বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পর্যায় (এইচএসসি ১ম বর্ষ) এ অধ্যয়নরত না থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
- শিক্ষার্থীর পিতা, মাতা বা পরিবারের আইনগত অভিভাবকের বার্ষিক মোট আয় ২,০০,০০০ (দুই লাখ) টাকার বেশি হলে তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
- আবেদনকারী যদি সরকারি বা অন্য কোনো বেসরকারি ফাউন্ডেশন, ট্রাস্ট বা ব্যাংক থেকে নিয়মিত অন্য কোনো বৃত্তি সুবিধা পেয়ে থাকেন, তবে তার আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে।
- আবেদন ফর্মে কোনো ভুল, অসত্য বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হলে আবেদনপত্র সাথে সাথেই বাতিল করা হবে।
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক বৃত্তি ২০২৬ আবেদনের নিয়ম
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন বৃত্তি ২০২৬ এর জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইননির্ভর। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট সরাসরি, ডাকযোগে বা কুরিয়ারের মাধ্যমে কোনো কাগজের কপি জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন সম্পন্ন করতে নিচের ধাপগুলো সতর্কতার সাথে অনুসরণ করুন:
ধাপ ১ — অফিসিয়াল আবেদন পেজে প্রবেশ: প্রথমে আপনার কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের ব্রাউজার থেকে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের নির্ধারিত অনলাইন আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে অফিসিয়াল আবেদন লিংক এখানে। পোর্টালে যাওয়ার পর বৃত্তির নির্দিষ্ট পাতায় ক্লিক করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করুন। প্রয়োজনে নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন

ধাপ ২ — নির্ধারিত ফরম পূরণ: পেজে প্রবেশ করার পর ওয়েবসাইটে একটি আবেদন ফরম দৃশ্যমান হবে। ফরমের প্রতিটি ঘর মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং তথ্যের ধরন বুঝে সঠিক তথ্য দিন।
ধাপ ৩ — ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্য সতর্কভাবে দেওয়া: আবেদনকারীর নাম, পিতা ও মাতার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, যোগাযোগের জন্য সঠিক মোবাইল নম্বর সুন্দরভাবে প্রদান করুন। এরপর এসএসসি পরীক্ষার তথ্য যেমন— রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বোর্ডের নাম, পাসের সন, অর্জিত জিপিএ এবং বর্তমানে ভর্তি হওয়া কলেজের বিবরণ প্রদান করুন।
ধাপ ৪ — প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড: আবেদনের নিয়ম হিসেবে ওয়েবসাইটে অনলাইন ফরমে যেসব নির্ধারিত কাগজপত্র যুক্ত করার সুবিধা থাকবে, সেগুলো স্ক্যান করে নির্দিষ্ট মাপে আপলোড করুন। বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত তথ্য অনুসারে যা চাওয়া হবে, তা পূর্বে প্রস্তুত রাখুন। সাধারণত আবেদন ফরমে চাওয়া ছবি, স্বাক্ষর, কিংবা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ট্রান্সক্রিপ্ট এবং অভিভাবকের আয়ের প্রমাণের ফাইল প্রয়োজন হতে পারে। তাই অনলাইন ফরমটি ওপেন করার সাথে সাথেই যা যা ফাইল প্রস্তুত রাখতে বলা হবে সেগুলো আগে থেকে ডিভাইসে রেখে দিন।
ধাপ ৫ — তথ্য পুনরায় যাচাই: সমস্ত তথ্য এবং সংযুক্ত নথি আপলোড করা সম্পন্ন হলে তাড়াহুড়ো না করে পুরো ফরমটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একাধিকবার সাবধানে পুনরায় যাচাই করুন। নামের বানান, রোল নম্বর এবং জিপিএ সঠিকভাবে এসেছে কি না মিলিয়ে নিন।
ধাপ ৬ — আবেদন জমা: সবকিছু সঠিক থাকলে ওয়েবসাইটে থাকা “Submit” বা জমা দেওয়ার বোতামে ক্লিক করে আবেদনপত্র চূড়ান্তভাবে পাঠিয়ে দিন।
ধাপ ৭ — আবেদন সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ/তথ্য সংরক্ষণ: অনলাইন আবেদন জমা সম্পূর্ণ হওয়ার পর স্ক্রিনে আবেদন সফল হওয়ার একটি বার্তা দেখা যাবে। সেখান থেকে আবেদনপত্রের কনফার্মেশন কপি বা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর যুক্ত পাতার ছবি/পিডিএফ ডাউনলোড করে নিজের কাছে ভবিষ্যৎ রেফারেন্স হিসেবে সংরক্ষণ করুন।
বৃত্তির আবেদন করার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
একটি ছোট ভুলের কারণে আপনার কষ্ট করে করা আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই ফর্ম পূরণের পূর্বে নিচে উল্লেখিত বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন:
- নামের বানান: আবেদনকারীর নিজের নাম, বাবার নাম এবং মায়ের নাম যেন হুবহু এসএসসি সনদ বা মার্কশিটের মতো হয়। কোনোভাবেই ডাকনাম বা ভিন্ন বানান ব্যবহার করা যাবে না।
- এসএসসি রোল ও অন্যান্য তথ্য: রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং পাশের সন দেওয়ার সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন। একটি ডিজিট ভুল হলে সিস্টেমে ভেরিফিকেশন ব্যর্থ হবে।
- জিপিএ সঠিকভাবে ইনপুট দেওয়া: আপনি চতুর্থ বিষয়সহ কত জিপিএ পেয়েছেন, তা নিশ্চিত হয়ে নির্ভুলভাবে লিখুন।
- মোবাইল নম্বর: আবেদনে এমন একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর প্রদান করুন যা সর্বদা চালু থাকে। কারণ বৃত্তি সম্পর্কিত পরবর্তী যেকোনো নোটিশ বা তথ্য এই নম্বরে বার্তার মাধ্যমে আসতে পারে।
- অভিভাবকের আয়: বার্ষিক আয়ের তথ্য লেখার সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন। তথ্যে কোনো অমিল পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আবেদন বাতিল হতে পারে।
- আপলোড করা নথির স্পষ্টতা: যেসব ছবি বা নথির ফাইল পোর্টালে আপলোড করা হবে, সেগুলো যেন স্পষ্ট ও পড়ার উপযোগী হয়। ঝাপসা বা কেটে যাওয়া ডকুমেন্ট আপলোড করলে আবেদন প্যানেল তা বাতিল করতে পারে।
- জমা দেওয়ার আগে রিভিশন: সাবমিট বাটনে চাপ দেওয়ার আগে প্রতিটি তথ্য অন্তত দুইবার মিলিয়ে নিন।
- শেষ দিনের জন্য ফেলে না রাখা: আবেদনের শেষ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কারণ শেষ মুহূর্তে ওয়েবসাইটের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে সার্ভার ধীরগতির হয়ে যেতে পারে।
আবেদনের শেষ তারিখ
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সময়সীমা অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষার্থীদের আগামী ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই তারিখ পেরিয়ে গেলে অনলাইন আবেদনের লিঙ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং নতুন করে কোনো আবেদন গ্রহণ করার ব্যবস্থা থাকবে না। তাই যেকোনো কারিগরি জটিলতা বা ব্যস্ততা এড়াতে শিক্ষার্থীরা অন্তত কয়েকদিন হাতে রেখেই যেন আবেদনপত্র জমা সম্পন্ন করেন।
অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে
আবেদনটি সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মূল পোর্টালে নির্ধারিত লিঙ্ক ব্যবহার করতে হবে। নিচের লিঙ্কের মাধ্যমে আপনি সরাসরি অফিশিয়াল আবেদন পাতায় পৌছে যেতে পারবেন:
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন বৃত্তির অনলাইন আবেদন
মনে রাখবেন, এটিই ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য একমাত্র অফিশিয়াল পেজ লিঙ্ক। আবেদন করার পূর্বে পেজে দেওয়া নিয়মাবলী ও নির্দেশনাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিন। পোর্টালে কোনো প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসলে সংশ্লিষ্ট পেজে তা দেখতে পাবেন।
বৃত্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন বৃত্তি ২০২৬ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু জরুরী সতর্কবার্তা রয়েছে:
- ভুল বা অসত্য তথ্য দান: আবেদনপত্রে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল বা মনগড়া কোনো তথ্য দিলে যাচাইবাছাই প্রক্রিয়ায় তা ধরা পড়বে এবং আবেদনটি সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
- একাধিক বৃত্তি প্রাপ্তি: আবেদনকারী অন্য কোনো ব্যাংক বা ফাউন্ডেশন থেকে বৃত্তি পেয়ে থাকলে এই বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন না।
- পুনরায় আবেদনের প্রয়োজন নেই: যেসব শিক্ষার্থী ব্যাংকের পূর্ববর্তী কোনো বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই সফলভাবে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করেছেন, তাদের নতুন করে এই বিজ্ঞপ্তির অধীনে আবেদন করার কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের পূর্বের আবেদনই বিবেচনায় রাখা হবে।
- অর্থ লেনদেন থেকে বিরত থাকুন: এই বৃত্তির আবেদনের জন্য কোনো প্রকার ফি প্রদান করতে হয় না। অনলাইন আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায়। সুতরাং, আবেদন করিয়ে দেওয়ার নামে কেউ যদি কোনো অর্থ দাবি করে তবে তাতে সাড়া দেবেন না। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র নির্ধারিত অফিশিয়াল লিঙ্কের মাধ্যমেই সম্পন্ন করুন।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
অভিভাবকদের সচেতনতা ও একটু সহায়তাই পারে একজন শিক্ষার্থীকে সঠিকভাবে আবেদন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সাহায্য করতে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা না বুঝে ভুল তথ্য প্রদান করে ফেলে, ফলে ভালো ফলাফল সত্ত্বেও তাদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তাই অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ:
প্রথমত, আপনার সন্তান যে যোগ্যতার মানদণ্ডে রয়েছে (যেমন: বিজ্ঞাপনে নির্ধারিত জিপিএ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাটাগরি) তা ঠান্ডা মাথায় যাচাই করে নিন। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকের মূল শর্ত অনুযায়ী আপনার পরিবারের সর্বমোট বার্ষিক আয় ২ লাখ টাকার মধ্যে রয়েছে কি না, তা অনুধাবন করুন। ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীকালে যাচাই প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। পরিশেষে, আপনার সন্তানের নাম, শিক্ষাগত সনদের রোল, জিপিএ এবং অনলাইন আপলোডের ফাইলগুলো সঠিকভাবে সংযোজিত হচ্ছে কি না, তা পাশে বসে নিশ্চিত করুন। আপনার একটি সঠিক পদক্ষেপই পারে শিক্ষার্থীর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার পথ তৈরি করতে।
বৃত্তি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ
বৃত্তি বা অনলাইন আবেদন সংক্রান্ত যেকোনো জিজ্ঞাসা, জটিলতা বা বিস্তারিত জানতে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের সাথে ফোন নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে। যোগাযোগের নম্বরগুলো নিচে প্রদান করা হলো:
- ফোন নম্বর: ০২-৫৮৮১৬৫২০, ০২-২২২২৮৩৪৫৭
- বর্ধিত নম্বর : ৭০২, ৭০৩, ৭০৭ এবং ৭০৮
যেকোনো প্রকার দাপ্তরিক সহযোগিতার প্রয়োজন হলে কর্মদিবসে অফিস চলাকালীন সময়ে উপরের নম্বরগুলোতে ফোন দিয়ে প্রয়োজনীয় সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ২০২৬-২৭: আবেদন, যোগ্যতা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সারসংক্ষেপে বলা যায়, ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী অসচ্ছল অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন বৃত্তি ২০২৬ একটি দারুণ সুযোগ। সিটি করপোরেশন এলাকার বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ৫.০০ এবং অন্যান্য বিভাগের জন্য ৪.৮০ জিপিএ প্রয়োজন; অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ৪.৮০ এবং অন্যান্য বিভাগের জন্য ৪.৫০ জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সবক্ষেত্রেই পরিবারের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকার মধ্যে হতে হবে। আবেদনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে এবং আবেদনের শেষ সময় ২৭ আগস্ট ২০২৬। যোগ্যতা পূরণকারী শিক্ষার্থীরা যেন কোনো ভুল না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনলাইন আবেদন জমা দেন, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন বৃত্তি ২০২৬ কারা পাবেন?
উত্তর: ২০২৫ সালে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পাবেন। শর্ত থাকে যে, শিক্ষার্থীকে বর্তমানে এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত থাকতে হবে এবং পারিবারিক বার্ষিক আয়ের সীমা মেনে ন্যূনতম জিপিএ অর্জন করতে হবে।
প্রশ্ন ২: ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা কি আবেদন করতে পারবেন?
উত্তর: হ্যাঁ, বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যারা বর্তমানে একাদশ শ্রেণীতে (এইচএসসি/সমমান) অধ্যয়ন করছেন, কেবল তারাই এই বৃত্তির আওতায় আবেদনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন।
প্রশ্ন ৩: বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কত জিপিএ লাগবে?
উত্তর: সিটি করপোরেশন বা বিভাগীয় শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ ৫.০০ থাকতে হবে। আর সিটি করপোরেশনের বাইরের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিভাগে ন্যূনতম ৪.৮০ জিপিএ থাকতে হবে।
প্রশ্ন ৪: সিটি করপোরেশনের বাইরের শিক্ষার্থীদের কত জিপিএ লাগবে?
উত্তর: সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগে ন্যূনতম জিপিএ ৪.৮০ এবং অন্যান্য বিভাগে (মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) ন্যূনতম জিপিএ ৪.৫০ অর্জিত হতে হবে।
প্রশ্ন ৫: আবেদন করার শেষ তারিখ কবে?
উত্তর: শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন বৃত্তি ২০২৬ এর জন্য অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখ হলো ২৭ আগস্ট ২০২৬। এই তারিখের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
প্রশ্ন ৬: আবেদন কি অনলাইনে করতে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েব লিঙ্কে প্রবেশের মাধ্যমে করতে হবে। ম্যানুয়াল, ডাকযোগ বা সরাসরি ব্যাংকের শাখায় গিয়ে কোনো আবেদন জমা দেওয়া যাবে না।
প্রশ্ন ৭: আগে আবেদন করা থাকলে আবার আবেদন করতে হবে কি?
উত্তর: না, আগের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে যারা ইতিমধ্যেই এই বৃত্তির জন্য অনলাইনে আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, তাদের নতুন করে পুনরায় আবেদন ফরম পূরণ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন ৮: পরিবারের বার্ষিক আয় কত হলে আবেদন করা যাবে না?
উত্তর: আবেদনকারী শিক্ষার্থীর পিতা, মাতা বা আইনগত অভিভাবকের বার্ষিক মোট আয় ২ (দুই) লাখ টাকার বেশি হলে সেই আবেদন কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না।