জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা করতে চান, কিন্তু পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে চিন্তায় আছেন? ভালো একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য জার্মানির হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশন (Hanns-Seidel-Stiftung)-এর স্কলারশিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।
এই স্কলারশিপের আওতায় যোগ্য শিক্ষার্থীরা মাসিক আর্থিক সহায়তা, পড়াশোনার খরচের জন্য আলাদা ভাতা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমার সহায়তা পেতে পারেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত পরামর্শ, বিভিন্ন সেমিনার ও একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগও রয়েছে।
২০২৭ সালের পরবর্তী আবেদনপর্ব ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত চলবে। হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এই সময় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষক, শিক্ষার্থী-গবেষণা এবং সাংবাদিকতা-সংক্রান্ত কয়েকটি কর্মসূচির জন্য আবেদন নেওয়া হবে।
হালনাগাদ: ১৮ আগস্ট ২০২৬
বিষয়: জার্মানিতে স্কলারশিপ / হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশন
হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ কী?
হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশন জার্মানির একটি রাজনৈতিক ফাউন্ডেশন, যা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেয়। স্কলারশিপটি শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পরামর্শ, সেমিনার, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য স্কলারদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগও পান।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফল, জার্মান ভাষার দক্ষতা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে আগ্রহ এবং গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
স্কলারশিপে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?
স্কলারশিপের অর্থের পরিমাণ আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে। হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশনের বর্তমান আর্থিক সহায়তার তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৯৯২ ইউরো মাসিক পর্যন্ত স্কলারশিপ এবং এর বাইরে ৩০০ ইউরো মাসিক স্টাডি কস্ট ভাতা দেওয়া হতে পারে।
- মাসিক স্কলারশিপ: শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৯৯২ ইউরো পর্যন্ত।
- পড়াশোনার খরচের ভাতা: প্রতি মাসে ৩০০ ইউরো।
- স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা: যোগ্য শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমার জন্য সর্বোচ্চ ১০২ ইউরো পর্যন্ত মাসিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
- নার্সিং/কেয়ার বিমা: নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত ৩৫ ইউরো পর্যন্ত সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।
- শিশু থাকলে অতিরিক্ত সহায়তা: যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে সন্তানের জন্য মাসিক শিশু-যত্ন ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে।
- অর্থ ফেরত দিতে হয় না: সাধারণভাবে এই স্কলারশিপ ফেরতযোগ্য ঋণ নয়।
- শিক্ষাগত ও ব্যক্তিগত পরামর্শ: স্কলারদের ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়।
- সেমিনার ও নেটওয়ার্কিং: বিভিন্ন অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ ও অন্য স্কলারদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাওয়া যায়।
তবে এগুলোকে সবার জন্য নিশ্চিত নির্দিষ্ট অর্থ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আবেদনকারীর পরিস্থিতি, যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে এবং উল্লিখিত সুবিধাগুলোর কোনোটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
কারা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন?
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত যোগ্যতার তালিকায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বয়স, জার্মান ভাষার দক্ষতা, ভালো একাডেমিক ফলাফল, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং জার্মানির কোনো রাষ্ট্রীয় বা রাষ্ট্রস্বীকৃত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন পড়াশোনা।
- সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স ৪৫ বছরের কম হতে হবে।
- জার্মান ভাষায় কমপক্ষে B2 বা সমমানের দক্ষতার প্রমাণ থাকতে হবে।
- স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো, বিশেষ করে গড়ের চেয়ে ভালো ফলাফল থাকা প্রত্যাশিত।
- স্বেচ্ছাসেবামূলক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকতে হবে।
- রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে আগ্রহ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
- গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের মতো মূল্যবোধের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব থাকতে হবে।
- জার্মানির কোনো রাষ্ট্রীয় বা রাষ্ট্রস্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন কোর্সে অধ্যয়ন করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ: শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই স্কলারশিপ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীর সামাজিক সম্পৃক্ততা, ব্যক্তিগত যোগ্যতা এবং ফাউন্ডেশনের মূল্যায়নের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
জার্মান ভাষার যোগ্যতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি। হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশনের বর্তমান আবেদন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের কমপক্ষে B2 স্তরের জার্মান ভাষাজ্ঞান বা সমমানের প্রমাণ দিতে হবে। ভাষার প্রমাণ ছাড়া আবেদন বিবেচনা করা হবে না।
তাই যারা বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে চান, তাদের আবেদন করার অনেক আগে থেকেই জার্মান ভাষার প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। শুধু ভাষা শেখা নয়, স্বীকৃত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ভাষাগত সনদ সংগ্রহের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখতে হবে।
আবেদনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে?
আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথিগুলো প্রস্তুত করে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ। হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশনের বর্তমান আবেদন নির্দেশনায় শিক্ষার্থী পর্যায়ের জন্য জীবনবৃত্তান্ত, পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার লক্ষ্য সম্পর্কিত নথি, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সুপারিশধর্মী নথির কথা বলা হয়েছে।
আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নথিগুলোর মধ্যে থাকতে পারে:
- টেবুলার জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি।
- বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্ত।
- শিক্ষা ও ক্যারিয়ার লক্ষ্য সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত এক্সপোজে/বিবরণী।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের নম্বরপত্র বা ট্রান্সক্রিপ্ট।
- বর্তমান ভর্তি বা শিক্ষার্থী পরিচয়পত্রের প্রমাণ, যদি প্রযোজ্য হয়।
- স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণপত্র।
- জার্মান ভাষার B2 বা সমমানের সনদ।
- প্রয়োজনীয় একাডেমিক সুপারিশ বা বিশেষজ্ঞ মতামত।
- সাংবাদিকতা কর্মসূচির আবেদন হলে সর্বোচ্চ পাঁচটি কাজের নমুনা বা সংশ্লিষ্ট লিংক।
অফিসিয়াল আবেদন নির্দেশনায় সাংবাদিকতা কর্মসূচির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচটি কাজের নমুনার কথাও উল্লেখ আছে। মাল্টিমিডিয়া, রেডিও বা টেলিভিশনের কাজ হলে ফাইলের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট লিংক দেওয়া যেতে পারে।
২০২৭ সালের আবেদন কবে শুরু হবে?
আবেদন শুরু: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬
আবেদনের শেষ তারিখ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৭
আবেদনের মাধ্যম: অনলাইন
হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল আবেদন পেজ অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি কর্মসূচির আবেদন নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরবর্তী আবেদনপর্ব ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।
জার্মানিতে স্কলারশিপের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন?
আবেদনটি শুধু তথ্য পূরণ করে জমা দিলেই শেষ নয়। আগে যোগ্যতা যাচাই, নথি প্রস্তুত এবং নিজের একাডেমিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকরভাবে এগোতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন।
ধাপ ১: নিজের যোগ্যতা যাচাই করুন
প্রথমে দেখুন আপনি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করছেন কি না। বিশেষ করে বয়স, B2 জার্মান ভাষার যোগ্যতা, একাডেমিক ফলাফল, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং জার্মানিতে পূর্ণকালীন উচ্চশিক্ষার বিষয়টি যাচাই করুন।
ধাপ ২: জার্মান ভাষার সনদ প্রস্তুত করুন
B2 বা সমমানের ভাষাগত প্রমাণ আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদন শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে নয়, যথেষ্ট সময় হাতে রেখে ভাষার পরীক্ষা ও সনদের ব্যবস্থা করা উচিত।
ধাপ ৩: একাডেমিক নথি গুছিয়ে নিন
সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট, বর্তমান শিক্ষার্থী পরিচয়ের প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য শিক্ষাগত কাগজপত্র পরিষ্কারভাবে প্রস্তুত করুন। স্ক্যান করা কপিগুলো পাঠযোগ্য কি না তাও পরীক্ষা করুন।
ধাপ ৪: স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ সংগ্রহ করুন
স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে থাকলে শুধু সিভিতে লিখে রাখলেই যথেষ্ট নয়। ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। তাই প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন থেকে যথাযথ প্রত্যয়ন সংগ্রহ করুন।
ধাপ ৫: সিভি ও লক্ষ্যপত্র প্রস্তুত করুন
সিভিতে শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, আপনার শিক্ষা, কাজ, সামাজিক কর্মকাণ্ড, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরুন। কেন জার্মানিতে পড়তে চান এবং ভবিষ্যতে কী করতে চান—এই বিষয়গুলোও যুক্তিসংগতভাবে ব্যাখ্যা করুন।
ধাপ ৬: অফিসিয়াল আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করুন
আবেদন শুধুমাত্র হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে করা যায়। আবেদন শুরু করার আগে সব প্রয়োজনীয় তথ্য ও ফাইল প্রস্তুত রাখুন। পোর্টালে আবেদন অসম্পূর্ণ থাকলে তা পরে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে জমা দেওয়ার আগে সব বাধ্যতামূলক ঘর পূরণ করতে হবে।
Note: নিচে অনলাইনে আবেদন করার লিংক দেওয়া হয়েছে,সেখান থেকে পোর্টালে গিয়ে আবেদন করুন।
ধাপ ৭: আবেদন জমা দেওয়ার পর নিশ্চিত করুন
আবেদন সফলভাবে জমা হলে পোর্টালেই আবেদন পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করার বার্তা দেখানো হয়। ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আলাদা নিশ্চিতকরণ ই-মেইল নাও আসতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রদর্শিত নিশ্চিতকরণ তথ্য সংরক্ষণ করা ভালো।
ধাপ ৮: বাছাইপর্বের জন্য প্রস্তুত থাকুন
আবেদন জমা দেওয়ার পর নথির ভিত্তিতে প্রাথমিক বাছাই হয়। উপযুক্ত প্রার্থীদের পরবর্তী বাছাই প্রক্রিয়ায় ডাকা হতে পারে। তাই আবেদন করার পর নিজের পড়াশোনা, গবেষণা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কথা বলার প্রস্তুতি রাখা উচিত।
সাংবাদিকতা নিয়ে আগ্রহীদের জন্য আলাদা সুযোগ
হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশনের সাংবাদিকতা-সংক্রান্ত সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর পড়াশোনা গণমাধ্যম, জনসংযোগ, প্রতিবেদন বা নাগরিক সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাদের জন্য এই কর্মসূচি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
এ ধরনের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিজের কাজের বাস্তব নমুনা গুরুত্বপূর্ণ। অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচটি কাজের নমুনা দেওয়া যায়; মাল্টিমিডিয়া, রেডিও বা টেলিভিশনের কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী লিংক ব্যবহার করা যায়।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শিক্ষাবৃত্তি ২০২৬: কারা পাবেন, কত টাকা ও আবেদন পদ্ধতি | DBBL Scholarship 2026
পিএইচডি করতে চাইলে কী জানা দরকার?
পিএইচডি ও গবেষণার জন্য আলাদা সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। বর্তমান অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী পিএইচডি স্কলারশিপের সর্বোচ্চ হার ১,৬৫০ ইউরো মাসিক এবং এর সঙ্গে ১০০ ইউরো গবেষণা-খরচের নির্দিষ্ট ভাতা রয়েছে। যোগ্য ক্ষেত্রে পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাও থাকতে পারে।
তবে পিএইচডি আবেদনকারীদের জন্য গবেষণার বিষয়, একাডেমিক যোগ্যতা, বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ অতিরিক্ত শর্ত থাকতে পারে। তাই পিএইচডির আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সর্বশেষ নির্দেশনা ভালোভাবে পড়া জরুরি।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
বাংলাদেশ থেকে আবেদন করার ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার—স্কলারশিপ পাওয়া এবং জার্মানিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া একই বিষয় নয়। স্কলারশিপের যোগ্যতা পূরণ করলেও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শর্ত আলাদাভাবে পূরণ করতে হবে। একইভাবে ভিসা, আবাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও আলাদা বিষয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকল্পে দেশভেদে প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে। HSS নিজেই আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিজ দেশের অফিস থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে; অফিস না থাকলে সরাসরি অনলাইন আবেদন পোর্টাল ব্যবহার করার নির্দেশনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিনা খরচে পড়াশোনার স্কলারশিপ ফুলব্রাইট, আবেদন করার নিয়ম
আবেদন করার আগে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
- শেষ মুহূর্তে আবেদন শুরু করবেন না।
- জার্মান ভাষার B2 সনদ ছাড়া আবেদন করার চেষ্টা করবেন না।
- সামাজিক বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ ছাড়া শুধু সিভিতে দাবি করবেন না।
- অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট স্ক্যান কপি আপলোড করবেন না।
- একই তথ্য সিভি, লক্ষ্যপত্র ও অন্যান্য নথিতে পরস্পরবিরোধীভাবে লিখবেন না।
- তৃতীয় পক্ষের ভুয়া ওয়েবসাইট বা দালালের মাধ্যমে আবেদন করবেন না।
- আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আবেদন করা যাবে—এমন ধারণা করবেন না।
অফিসিয়াল গুরুত্বপূর্ণ লিংক
আবেদন করার আগে তৃতীয় পক্ষের পোস্টের পরিবর্তে হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসরণ করুন। নিচের পেজগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:
- অফিসিয়াল আবেদন পদ্ধতি ও আবেদন পোর্টাল
- কে আবেদন করতে পারবেন—যোগ্যতার শর্ত
- স্কলারশিপের আর্থিক সুবিধা
- স্কলারশিপ ও অন্যান্য সুবিধা
- বাছাই প্রক্রিয়া
- হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম
শেষ কথা
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশনের স্কলারশিপ নিঃসন্দেহে বিবেচনা করার মতো একটি সুযোগ। তবে শুধু মাসিক ভাতার পরিমাণ দেখে আবেদন না করে নিজের একাডেমিক ফলাফল, জার্মান ভাষার দক্ষতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবকিছু মিলিয়ে যোগ্যতা যাচাই করা উচিত।
বিশেষ করে ২০২৭ সালের আবেদনপর্বের জন্য আগ্রহীদের এখন থেকেই নথিপত্র, ভাষার সনদ, সিভি এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রস্তুত করা ভালো। আবেদন করার আগে অবশ্যই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ নিয়ম ও শর্ত আবার যাচাই করবেন, কারণ স্কলারশিপের অর্থের পরিমাণ, যোগ্যতা বা আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন হতে পারে।
দাবিত্যাগ
এই লেখাটি শিক্ষার্থী ও পাঠকদের তথ্যগত সহায়তার উদ্দেশ্যে তৈরি। এখানে উল্লেখিত স্কলারশিপের অর্থ, যোগ্যতা, সময়সীমা ও অন্যান্য তথ্য হান্স সাইডেল ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সংকলন করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, আবেদনযোগ্যতা ও সুবিধার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। আবেদন করার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন। এই লেখা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, স্কলারশিপ পাওয়া বা ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।