বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়াশোনা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে Kennedy-Lugar Youth Exchange and Study (K-L YES) Program। এটি সাধারণ কোনো বেসরকারি বৃত্তি নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে বসবাস ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ পায়।
বাংলাদেশ থেকে এই কর্মসূচির আবেদন ও বাছাই কার্যক্রমে iEARN-Bangladesh যুক্ত রয়েছে। ২০২৭ সালের বসন্ত সেমিস্টারের জন্য প্রাথমিক আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমান বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রাথমিক আবেদনের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেল ৪টা।
এই লেখায় K-L YES Program 2027 সম্পর্কে যোগ্যতা, কী কী সুবিধা পাওয়া যায়, কোন খরচ বহন করা হয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম, ফোন সাক্ষাৎকার, ইংরেজি পরীক্ষা, রচনা, চূড়ান্ত সাক্ষাৎকার এবং নির্বাচিত হওয়ার পর কী হয়—সবকিছু সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
K-L YES Program কী?
K-L YES বা Kennedy-Lugar Youth Exchange and Study Program হলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি শিক্ষাবর্ষের নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করে স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ পায়।
বাংলাদেশে এই কর্মসূচি ২০০৩ সাল থেকে চালু রয়েছে। iEARN-Bangladesh-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে প্রায় ৫৩০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী YES Program-এ অংশ নিয়েছে। কর্মসূচিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে না; তারা মার্কিন পরিবার, স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গেও সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
২০২৭ সালের বসন্ত সেমিস্টারের কর্মসূচি জানুয়ারি ২০২৭ থেকে শুরু হওয়ার কথা। YES Programs-এর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী Spring 2027 কার্যক্রম জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চলবে।
K-L YES Program 2027-এ কী সুযোগ পাওয়া যাবে?
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য এটি মূলত একটি শিক্ষার্থী বিনিময় অভিজ্ঞতা। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শিক্ষার্থী একটি স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে মার্কিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা করবে এবং একটি নির্বাচিত মার্কিন পরিবারের সঙ্গে বসবাস করবে।
এর ফলে একজন শিক্ষার্থী বইয়ের বাইরে বাস্তব জীবনে ইংরেজি ব্যবহার, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, দলগত কাজ, নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—এটিকে শুধু “আমেরিকায় বিনা খরচে পড়াশোনার বৃত্তি” হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা হবে না। এটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।
K-L YES Program 2027-এ কারা আবেদন করতে পারবে?
আবেদন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের যোগ্যতা যাচাই করা। কারণ প্রাথমিক আবেদন জমা দিলেই কেউ পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। যোগ্যতার শর্ত পূরণ করার পর আবেদনকারীদের বিভিন্ন ধাপে বাছাই করা হবে।
iEARN-Bangladesh-এর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, Spring 2027 কর্মসূচির জন্য আবেদনকারীর জন্মতারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০১০ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০১২-এর মধ্যে হতে হবে। অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে আবেদনকারীর বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে হতে হবে।
আরো পড়ুনঃ
এইচএসসি পাস শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ৩ মাস ফ্রিল্যান্সিং, দিনে ভাতা ২০০ টাকা(আবেদন পদ্ধতি দেখুন)
এ ছাড়া আবেদনকারীকে বাংলাদেশে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা কলেজে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করতে হবে। বর্তমানে ৮ম, ৯ম, ১০ম বা ১১শ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে আবেদন করতে পারবে।
যোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো এক নজরে
- ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- জন্মতারিখ জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী ১৫ জানুয়ারি ২০১০ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০১২-এর মধ্যে হতে হবে।
- আবেদনের সময় বাংলাদেশে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা কলেজে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে।
- ৮ম, ৯ম, ১০ম অথবা ১১শ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত হতে হবে।
- ব্যক্তিগত কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী হিসেবে আবেদন করা যাবে না।
- বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী হতে হবে।
- ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ফলাফল বা নম্বরপত্র দিতে হবে।
- গত তিন শিক্ষাবর্ষে কোনো বিরতি বা একই শ্রেণিতে পুনরায় পড়ার ঘটনা থাকা যাবে না।
- ফলাফলে গড় মান কমপক্ষে B সমমান বা তার চেয়ে ভালো হতে হবে এবং অকৃতকার্য ফল থাকা যাবে না।
- ইংরেজিতে কথা বলা ও পড়াশোনা করার মতো পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকতে হবে।
- যুক্তরাষ্ট্রের J-1 বিনিময় ভিসার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
- আবেদনকারী বা তার পরিবারকে YES Program-এর অন্যান্য নির্ধারিত অযোগ্যতার শর্তে পড়া যাবে না।
উপরের শর্তগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে গত পাঁচ বছরে মোট ৯০ দিনের বেশি অবস্থান, দ্বৈত নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার অবস্থান এবং পারিবারিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের আবেদন করার মতো বিষয়ও যোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আবেদন করার আগে অফিসিয়াল যোগ্যতার তালিকা ভালোভাবে পড়া জরুরি।
কারা আবেদন করতে পারবে না?
সব শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারবে না। উদাহরণ হিসেবে, যারা ইতোমধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় শেষ করে ফেলেছে বা কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করবে, তারা যোগ্য নয়।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা, অন্য দেশের স্থায়ী বাসিন্দা, নির্দিষ্ট ভিসা যোগ্যতা পূরণ করতে না পারা ব্যক্তি এবং কিছু পারিবারিক বা অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্তের আওতায় থাকা আবেদনকারীরাও অযোগ্য হতে পারে।
iEARN-Bangladesh-এর তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীর বাবা-মায়ের কেউ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা মিশনে কর্মরত থাকলে আবেদনকারী অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। একইভাবে আবেদনকারীর ভাই বা বোন আগে YES Program-এ অংশগ্রহণ করে থাকলেও আবেদন করা যাবে না।
২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ফলাফল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
K-L YES Program-এর আবেদনে শুধু বর্তমান শ্রেণির ফলাফল দেখলেই হবে না। আবেদনকারীকে ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের একাডেমিক নথি দিতে হবে। এই তিন বছরের শিক্ষাজীবনে কোনো গ্যাপ বা একই শ্রেণিতে পুনরায় পড়ার ঘটনা থাকলে যোগ্যতার সমস্যা হতে পারে।
তাই আবেদন শুরু করার আগেই তিন বছরের নম্বরপত্র বা ফলাফলের পরিষ্কার কপি প্রস্তুত রাখা ভালো। iEARN-Bangladesh-এর আবেদন নির্দেশনায় এসব নথির পরিষ্কার স্ক্যান কপি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
K-L YES Program-এ কী কী খরচ বহন করা হয়?
এই কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ হলো নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খরচ কর্মসূচির পক্ষ থেকে বহন করা হয়। তবে “সব খরচ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে”—এভাবে বলা ঠিক হবে না। কিছু ব্যয় আবেদনকারী বা পরিবারের ওপর থাকতে পারে।
YES Program-এর তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির পক্ষ থেকে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া, প্রাক-যাত্রা প্রস্তুতি কার্যক্রম, মার্কিন হোস্ট পরিবারের সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্য বীমা এবং কর্মসূচির কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় উপকরণের খরচ দেওয়া হয়।
যেসব খরচ কর্মসূচি বহন করে
- নিজ দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ও ফেরার বিমান ভাড়া
- প্রাক-যাত্রা প্রস্তুতি কার্যক্রম
- নির্বাচিত মার্কিন হোস্ট পরিবারের সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা
- নির্দিষ্ট পরিমাণ মাসিক ভাতা
- স্বাস্থ্য বীমা
- কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় উপকরণ
যেসব খরচ সাধারণত বহন করা হয় না
- পাসপোর্ট তৈরির খরচ
- প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা ও টিকা
- ব্যক্তিগত অতিরিক্ত খরচ বা অতিরিক্ত হাতখরচ
অর্থাৎ আবেদন করার আগে পরিবারের পক্ষ থেকে পাসপোর্ট, চিকিৎসা পরীক্ষা এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় অর্থের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।
K-L YES Program 2027 আবেদনের শেষ সময় কত?
K-L YES Program Spring Semester 2027-এর প্রাথমিক আবেদনের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেল ৪টা।
শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে আগে আবেদন করা ভালো। কারণ অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে ই-মেইল যাচাই, নথি প্রস্তুত, ছবি ও কাগজের স্ক্যান, তথ্য সংশোধন এবং স্বাক্ষর পৃষ্ঠা আপলোড করতে সময় লাগতে পারে।
বিশেষ করে iEARN-Bangladesh-এর নির্দেশনায় প্রতিটি অংশ পূরণের পর “Save” করতে বলা হয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে আবেদন না করাই নিরাপদ।
আবেদনের জন্য কী কী কাগজ লাগবে?
প্রাথমিক আবেদন করার আগে কয়েকটি নথি প্রস্তুত করে রাখা উচিত। iEARN-Bangladesh-এর বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের ছবি, জন্মনিবন্ধনের পরিষ্কার কপি এবং ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের একাডেমিক নম্বরপত্রের স্ক্যান কপি।
নথিগুলো JPG বা JPEG ফরম্যাটে প্রস্তুত করতে হবে এবং নির্দেশনায় প্রতিটি স্ক্যানের ফাইলের আকার সর্বোচ্চ ২ এমবি রাখার কথা বলা হয়েছে। কারও পাসপোর্ট থাকলে তথ্য ও ছবিযুক্ত পৃষ্ঠার পরিষ্কার কপিও প্রস্তুত রাখা যেতে পারে; তবে প্রাথমিক পর্যায়ে পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
K-L YES Program 2027 অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম
অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। নতুন আবেদনকারীদের জন্য সহজভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি নিচে দেওয়া হলো।
ধাপ ১: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করুন
প্রথমে ছবি, জন্মনিবন্ধন এবং ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের একাডেমিক নথির পরিষ্কার স্ক্যান তৈরি করুন। ফাইলের ধরন ও আকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখুন।
ধাপ ২: আবেদন পোর্টালে নিবন্ধন করুন
iEARN-Bangladesh-এর K-L YES Program আবেদন পেজ থেকে প্রাথমিক আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করুন। সেখানে Register to Apply নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।

ধাপ ৩: ই-মেইল যাচাই করুন
নিবন্ধনের সময় যে ই-মেইল ঠিকানা দেওয়া হবে সেখানে একটি যাচাইকরণ বার্তা পাঠানো হবে। বার্তাটি পেলে Verify my email নির্বাচন করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করা যাবে।
ধাপ ৪: আবেদন ফরম পূরণ করুন
আবেদন ফরমে শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একাডেমিক তথ্য, অভিভাবক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। প্রতিটি অংশ পূরণ করার পর Save করতে হবে।
ধাপ ৫: নথি আপলোড করুন
প্রতিটি নির্ধারিত জায়গায় সংশ্লিষ্ট নথি আপলোড করুন। নথি আপলোড করার পরও Save নির্বাচন করতে হবে। শুধু ফাইল নির্বাচন করলেই কাজ শেষ হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
ধাপ ৬: তথ্য পর্যালোচনা করুন
সব তথ্য দেওয়ার পর Review পেজে গিয়ে নাম, জন্মতারিখ, শ্রেণি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফলাফল, অভিভাবকের তথ্য এবং আপলোড করা নথি ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। ভুল থাকলে এই পর্যায়েই সংশোধন করুন।
ধাপ ৭: Confirm Data নির্বাচন করুন
তথ্য যাচাই শেষ হলে Confirm Data নির্বাচন করতে হবে। iEARN-Bangladesh-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এই ধাপের পর আর তথ্য সম্পাদনের সুযোগ থাকবে না। তাই নিশ্চিত না হয়ে এই বোতামে চাপ দেওয়া উচিত নয়।
ধাপ ৮: আবেদন ফরম সংরক্ষণ করুন
Signature Page-এ গিয়ে Download Form নির্বাচন করে সম্পূর্ণ আবেদন ফরমের কপি সংরক্ষণ করুন। ভবিষ্যতের জন্য ফাইলটি নিরাপদ জায়গায় রাখা ভালো।
ধাপ ৯: স্বাক্ষর পৃষ্ঠা প্রস্তুত করুন
ডাউনলোড করা ফরমের Signature Page প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সম্পন্ন করতে হবে। এরপর শুধু স্বাক্ষর করা পৃষ্ঠাটি পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করে JPG বা JPEG ফরম্যাটে প্রস্তুত করতে হবে।
ধাপ ১০: স্বাক্ষর পৃষ্ঠা আপলোড করুন
স্বাক্ষর পৃষ্ঠাটি নির্ধারিত জায়গায় আপলোড করে Save করুন। এরপর পরবর্তী পৃষ্ঠায় গিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।
ধাপ ১১: আবেদন জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন
আবেদন জমা হওয়ার পর নিবন্ধনের সময় দেওয়া ই-মেইল ঠিকানায় নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হবে। সেখানে Applicant ID এবং আবেদনপত্রের PDF কপি থাকার কথা। ই-মেইল পাওয়ার পর সেটি সংরক্ষণ করুন।
আবেদন করার পর কী হবে?
প্রাথমিক আবেদন জমা দেওয়ার পর সবার আবেদন সরাসরি চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবে না। YES Program-এর নির্বাচন কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রাথমিকভাবে যোগ্য আবেদনকারীদের যাচাই করার পর পরবর্তী ধাপে ডাকা হবে।
বর্তমান Spring 2027 প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো হলো:
- প্রাথমিক আবেদন
- ফোন সাক্ষাৎকার
- ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষা
- নির্দিষ্ট সময়ে রচনা লেখা
- চূড়ান্ত আবেদন
- দলীয় সাক্ষাৎকার
- ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার
- Finalist ও Alternate নির্বাচন
অর্থাৎ শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই নির্বাচন নিশ্চিত নয়। পুরো প্রক্রিয়ায় ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগ, নিজের মতামত প্রকাশ, আত্মবিশ্বাস, রচনা এবং সাক্ষাৎকারসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়।
ফোন সাক্ষাৎকারে কী হয়?
প্রাথমিক আবেদন যাচাইয়ের পর যোগ্য প্রার্থীদের ফোন সাক্ষাৎকারের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। iEARN-Bangladesh-এর তথ্য অনুযায়ী এই সাক্ষাৎকার সাধারণত প্রায় ৩ থেকে ৫ মিনিটের হতে পারে। মূল উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারীর ইংরেজি শুনে বোঝার ক্ষমতা, কথা বলার দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস যাচাই করা।
তাই ফোন সাক্ষাৎকারের জন্য মুখস্থ করা উত্তর মুখে বলার চেয়ে নিজের সম্পর্কে সহজ ইংরেজিতে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার অভ্যাস করা বেশি কার্যকর।
ইংরেজি পরীক্ষায় কী থাকবে?
ফোন সাক্ষাৎকারে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপে ELTiS 2.0 পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। ELTiS হলো English Language Test for International Students। iEARN-Bangladesh-এর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী পরীক্ষাটিতে Listening এবং Reading—এই দুই অংশ রয়েছে।
Listening অংশের জন্য ৩০ মিনিট এবং Reading অংশের জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারিত। এর পাশাপাশি নির্বাচিত প্রার্থীদের তিনটি নির্ধারিত রচনা লিখতে হবে এবং প্রতিটি রচনার জন্য ১৫ মিনিট করে সময় দেওয়া হবে।
চূড়ান্ত সাক্ষাৎকার কেমন?
ELTiS এবং রচনা পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত আবেদন সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর তাদের চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হবে। এই সাক্ষাৎকারের দুটি অংশ রয়েছে—দলীয় সাক্ষাৎকার ও ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার।
এই পর্যায়ে নিজের পরিচয়, মতামত, নেতৃত্বের মানসিকতা, অন্যের সঙ্গে কাজ করার ক্ষমতা এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই শুধু বইয়ের পড়াশোনা নয়, নিজের চিন্তা পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করার অভ্যাসও তৈরি করা দরকার।
নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় থাকা হবে?
YES Program-এর নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি যাচাই করা হোস্ট পরিবারের সঙ্গে বসবাস করবে। হোস্ট পরিবারগুলোকে শিক্ষার্থী গ্রহণের আগে নির্দিষ্ট প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের স্থানীয় এলাকার একটি বিদ্যালয়ে মার্কিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা করবে।
কর্মসূচির সময় শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য স্থানীয় সমন্বয়কারী ও কর্মসূচির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা থাকেন। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও সুস্থতা কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জরুরি পরিস্থিতিতেও সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে বলে YES Program-এর অফিসিয়াল তথ্য জানায়।
স্বাস্থ্য বীমা ও চিকিৎসা সুবিধা
YES Program-এর নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের দুর্ঘটনা ও অসুস্থতার জন্য স্বাস্থ্য বীমা দেওয়া হয়। তবে নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা সংক্রান্ত মূল্যায়ন চূড়ান্ত নির্বাচনের আগে সাধারণ প্রার্থী বাছাইয়ের অংশ হিসেবে করা হয় না; Finalist বা Alternate হওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পর্যালোচনা হতে পারে। তাই কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য তথ্য গোপন না করে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সঠিক তথ্য দেওয়া উচিত।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
একজন স্কুলশিক্ষার্থীকে কয়েক মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো পরিবারের জন্য অবশ্যই বড় সিদ্ধান্ত। তাই শুধু “আমেরিকায় পড়ার সুযোগ” দেখে আবেদন না করে পুরো কর্মসূচির ধরন বোঝা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীকে একটি অপরিচিত পরিবারের সঙ্গে থাকতে হবে, নতুন বিদ্যালয়ে পড়তে হবে এবং ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে দৈনন্দিন জীবন কাটাতে হবে। ফলে আত্মনির্ভরতা, দায়িত্বশীলতা এবং মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
অভিভাবকদের উচিত আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা এবং কর্মসূচির নিয়ম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চিকিৎসা প্রক্রিয়া, ব্যক্তিগত খরচ ও বিদেশে থাকার বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া।
শুধু ভালো ফলাফল থাকলেই কি YES Program-এ সুযোগ পাওয়া যায়?
না। ভালো ফলাফল যোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এটিই একমাত্র বিষয় নয়। YES Program-এর বাছাই প্রক্রিয়া একাধিক ধাপে সম্পন্ন হয় এবং প্রার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা, রচনা, ফোন সাক্ষাৎকার, দলীয় সাক্ষাৎকার ও ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের মতো বিভিন্ন ধাপে অংশ নিতে হয়।
চূড়ান্ত নির্বাচন মেধাভিত্তিক। তাই একজন শিক্ষার্থীকে শুরু থেকেই নিজের একাডেমিক প্রস্তুতির পাশাপাশি ইংরেজিতে যোগাযোগ, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
আবেদন করার আগে ১০টি বিষয় অবশ্যই যাচাই করুন
- আপনার জন্মতারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০১০ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০১২-এর মধ্যে কি না।
- আপনি বর্তমানে ৮ম, ৯ম, ১০ম বা ১১শ শ্রেণিতে পড়ছেন কি না।
- আপনি বাংলাদেশে নিয়মিত মাধ্যমিক শিক্ষার্থী কি না।
- ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের একাডেমিক নথি দিতে পারবেন কি না।
- গত তিন বছরে আপনার কোনো গ্যাপ বা পুনরায় একই শ্রেণিতে পড়ার ঘটনা আছে কি না।
- আপনার ফলাফল B সমমান বা তার চেয়ে ভালো এবং কোনো অকৃতকার্য ফল নেই কি না।
- জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য নথির পরিষ্কার স্ক্যান প্রস্তুত আছে কি না।
- ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না।
- আবেদনের প্রতিটি অংশ পূরণের পর Save করা হয়েছে কি না।
- চূড়ান্তভাবে Submit করার আগে সব তথ্য আবার যাচাই করা হয়েছে কি না।
আবেদনের সময় যে ভুলগুলো করবেন না
অনলাইন আবেদন করতে গিয়ে অনেক সময় ছোট ভুলও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন জন্মতারিখ জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে মিল না রাখা, ভুল শ্রেণি নির্বাচন, অসম্পূর্ণ একাডেমিক তথ্য, অস্পষ্ট নথি আপলোড, ভুল ই-মেইল দেওয়া অথবা প্রয়োজনীয় অংশ Save না করা।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো Review পর্যায়। Confirm Data নির্বাচন করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন। কারণ iEARN-Bangladesh-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এই ধাপের পর তথ্য সম্পাদনের সুযোগ থাকে না।
K-L YES Program 2027 কি সত্যিই সম্পূর্ণ বিনা খরচের?
এখানে একটু সতর্কভাবে বিষয়টি বোঝা দরকার। কর্মসূচি নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য বিমান ভাড়া, হোস্ট পরিবার, স্বাস্থ্য বীমা, নির্দিষ্ট ভাতা এবং কর্মসূচির অনেক খরচ বহন করে। কিন্তু পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা ও টিকা এবং অতিরিক্ত ব্যক্তিগত খরচের মতো কিছু ব্যয় শিক্ষার্থী বা পরিবারের ওপর থাকতে পারে।
তাই “সব ধরনের খরচ সরকার বা YES Program দেবে”—এমন দাবি করা ঠিক হবে না। আবেদন করার আগে অফিসিয়াল শর্তগুলো দেখে পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ব্যক্তিগত ব্যয়ের প্রস্তুতি রাখা ভালো।
K-L YES Program 2027 নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন
প্রশ্ন: YES Program কি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য?
হ্যাঁ। বাংলাদেশ YES Program-এর অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর একটি। বাংলাদেশ থেকে iEARN-Bangladesh-এর মাধ্যমে আবেদন ও বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রশ্ন: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি আবেদন করতে পারবে?
না। এই কর্মসূচি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। Spring 2027-এর জন্য নির্দিষ্ট শ্রেণি ও বয়সের শর্ত পূরণ করতে হবে।
প্রশ্ন: কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী কি আবেদন করতে পারবে?
না। বর্তমান যোগ্যতার নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীকে বাংলাদেশে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা কলেজে নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে।
প্রশ্ন: পাসপোর্ট না থাকলে আবেদন করা যাবে?
প্রাথমিক আবেদন পর্যায়ে পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে পাসপোর্ট থাকলে তথ্য পৃষ্ঠার পরিষ্কার কপি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: আবেদন করলেই কি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নিশ্চিত?
না। আবেদন করার পর একাধিক ধাপে বাছাই হয়। ফোন সাক্ষাৎকার, ইংরেজি পরীক্ষা, রচনা, চূড়ান্ত আবেদন এবং সাক্ষাৎকারের পর মেধার ভিত্তিতে Finalist ও Alternate নির্বাচন করা হয়।
প্রশ্ন: YES Program-এ নির্বাচিত হলে কোথায় থাকা হবে?
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি যাচাই করা হোস্ট পরিবারের সঙ্গে থাকবে এবং স্থানীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবে।
প্রশ্ন: প্রাথমিক আবেদনের শেষ সময় কখন?
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেল ৪টা। শেষ সময়ের আগেই আবেদন জমা দেওয়া উচিত।
সরাসরি আবেদন করার আগে অফিসিয়াল তথ্য দেখুন
YES Program নিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট, ভিডিও বা অনলাইন ব্লগে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই বয়স, শ্রেণি, শেষ সময়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদন পদ্ধতির মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করার ক্ষেত্রে সবসময় iEARN-Bangladesh এবং YES Programs-এর অফিসিয়াল তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
বর্তমান Spring 2027 প্রাথমিক আবেদনের জন্য iEARN-Bangladesh-এর আবেদন নির্দেশনায় দেওয়া নিয়ম অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
অফিসিয়াল আবেদন পেজ:
iEARN-Bangladesh K-L YES Program Application
অফিসিয়াল YES Program:
YES Programs – Bangladesh
আবেদন পোর্টাল:
K-L YES Bangladesh Application Portal
শেষ কথা
K-L YES Program বাংলাদেশি স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য শুধু বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নয়; এটি নতুন শিক্ষা পরিবেশ, সংস্কৃতি, পরিবার ও সমাজকে কাছ থেকে জানার একটি বড় অভিজ্ঞতা। একজন শিক্ষার্থী যদি যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে, ইংরেজিতে যোগাযোগ করতে পারে এবং নতুন পরিবেশে শেখার আগ্রহ রাখে, তাহলে এই কর্মসূচি তার জন্য মূল্যবান হতে পারে।
তবে আবেদন করার সময় কোনো তথ্য অনুমান করে দেওয়া উচিত নয়। জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য ও একাডেমিক নথির সঙ্গে মিল রেখে সব তথ্য পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টার সময়সীমা মাথায় রেখে আগেই আবেদন সম্পন্ন করা ভালো।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, YES Program-এর নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক এবং একাধিক ধাপে সম্পন্ন হয়। তাই আবেদন করাটাই শেষ নয়—পরবর্তী ফোন সাক্ষাৎকার, ইংরেজি পরীক্ষা, রচনা ও সাক্ষাৎকারের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে। অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে কোনো নতুন নির্দেশনা বা সময়সূচি পরিবর্তন হলে সেটিকেই সর্বশেষ তথ্য হিসেবে বিবেচনা করুন।
তথ্যসূত্র: iEARN-Bangladesh, YES Programs এবং সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল আবেদন তথ্য। এই পোস্টের তথ্য Spring Semester 2027-এর বর্তমান প্রকাশিত নির্দেশনার ভিত্তিতে লেখা হয়েছে।
সর্বশেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬