Bkash এ DPS খোলার নিয়ম 2026

Table of contents
Telegram chanel Join our Telegram channel
Join
Spread the love

প্রিয় পাঠক, সঞ্চয় মানবজীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পদক্ষেপ।আমাদের সকলের জানা আছে,ভবিষ্যতে হঠাৎ কোনো জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে কিংবা নিজের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য পূরণ করতে নিয়মিত ছোট ছোট টাকা জমানোর অভ্যাস দারুণ কাজে দেয়। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য এই সঞ্চয় প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও হাতের নাগালের মধ্যে এনে দিয়েছে বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং। এখন আমাদেরকে ব্যাংক বা কোনো ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্বশরীরে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফরম পূরণ করার প্রয়োজন হয় না। এখন চাইলেই,বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই যেকোনো সময় যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডিপিএস (Deposit Pension Scheme) খুলতে পারতেছি। বন্ধুরা এই নির্দেশিকায় Bkash এ DPS খোলার নিয়ম 2026, এর সুবিধা, বিভিন্ন মেয়াদের সঞ্চয় পরিকল্পনা, অটো ডেবিট প্রক্রিয়া এবং আর্থিক সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো , আপনারা মনযোগ সহকারে দেখে নিন।

বিকাশ ডিপিএস কী?

বিকাশ ডিপিএস হলো এমন একটি ডিজিটাল সঞ্চয় ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে বাংলাদেশে অনুমোদিত বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মেয়াদের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময় পর পর (মাসিক বা সাপ্তাহিক) টাকা জমা রাখা যায়। সহজ কথায়, এটি একটি ই-ডিপিএস বা ডিজিটাল সঞ্চয় হিসাব। গ্রাহক প্রতি মাসে বা সপ্তাহে কত টাকা জমা করতে চান এবং কত সময় ধরে জমানো চালিয়ে যাবেন, তা নিজেই বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে নির্ধারণ করে নিতে পারেন। বিকাশ সরাসরি ডিপিএস পরিচালনা করে না; এটি অনেকটা একটি মাধ্যম বা প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। আপনার সঞ্চিত অর্থ বিকাশ অ্যাপ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নিয়ে দেশের নিবন্ধিত ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ অ্যাকাউন্টে জমাদান করে থাকে। মেয়াদ পূরণ হলে সেই ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী মুনাফাসহ মূলধন পুনরায় বিকাশ অ্যাকাউন্টে ফেরত আসে।

২০২৬ সালে বিকাশে ডিপিএস খোলার আগে যা জানা জরুরি

আপনে যদি ২০২৬ সালে বিকাশে সঞ্চয় শুরু করতে চান, তবে আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ পরিবর্তন ও তথ্যাবলি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। বিকাশে সাধারণত দুই ধরনের কিস্তি জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে—সেটা হলো :মাসিক এবং সাপ্তাহিক। বর্তমানে মাসিক সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,০০০ টাকা, ২,০০০ টাকা, ৩,০০০ টাকা বা এর বেশি বিভিন্ন কিস্তিতে সঞ্চয় করা সম্ভব। এই ডিপিএসগুলোর মেয়াদ হতে পারে ৬ মাস, ১২ মাস (১ বছর), ২৪ মাস (২ বছর), ৩৬ মাস (৩ বছর) কিংবা ৪৮ মাস (৪ বছর)।

অন্যদিকে, যারা প্রতি সপ্তাহে ছোট অঙ্কের টাকা আলাদা করে জমাতে চান, তাদের জন্য রয়েছে সাপ্তাহিক ডিপিএস এর সুবিধা। আমার মতে সাপ্তাহিক না করে মসিক সঞ্চয় করাটাই ভালো হবে। সাপ্তাহিক সঞ্চয়ে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে সুবিধাজনক নির্দিষ্ট অংকের টাকা জমা রাখা যায়, যার সময়সীমা সাধারণত ৬ মাস ও ১২ মাস হয়ে থাকে। কিছু কথা মনে রাখবেন  যে, সময় ও আর্থিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এসব কিস্তির সীমা ও মেয়াদের নিয়ম বিকাশ পরিবর্তন হতে পারে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অ্যাপে প্রদর্শিত তথ্য পর্যবেক্ষণ করে নেওয়া বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।

Bkash dps policy

কারা কারা বিকাশ এ ডিপিএস খুলতে পারবেন?

বিকাশের মাধ্যমে ডিপিএস খোলার সুযোগ সবাই পাবেন না। এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়মাবলী রয়েছে, সেই নিয়মাবলী গুলি উল্লেখ করা হলো:

  • গ্রাহককে অবশ্যই বাংলাদেশের একজন নাগরিক হতে হবে এবং তার বয়স হতে হবে ১৮ বছর বা তার বেশি।
  • গ্রাহকের একটি সক্রিয় (Active) বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
  • অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই বায়োমেট্রিক জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ডিজিটালভাবে নিবন্ধিত হতে হবে।
  • যাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টের তথ্যাবলি হালনাগাদ (Update) করা নেই অথবা সাময়িক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তারা তথ্য হালনাগাদ না করা পর্যন্ত ডিপিএস সুবিধা নাও পেতে পারেন।
  • গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে পূর্বে খোলা ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে তথ্যের মিল থাকা বাঞ্ছনীয়।

বিকাশে ডিপিএস খুলতে আসলে কী কী প্রয়োজন?

বন্ধুরা,সাধারণ ব্যাংকে গিয়ে সঞ্চয় হিসাব খুলতে যেসব দীর্ঘ কাগজপত্র জমা দিতে হয়, বিকাশের ক্ষেত্রে তা প্রয়োজন হয় না। বিকাশে ডিপিএস খুলতে মূলত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিম্নে বুলেট আকারে তুলে ধরা হলো:

  • একটি সচল স্মার্টফোন এবং তাতে ইন্টারনেট সংযোগ।
  • হালনাগাদ করা তথ্যাবলিসহ নিবন্ধিত ও সক্রিয় বিকাশ অ্যাপ।
  • মনোনীত নমিনির সঠিক জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও জন্ম তারিখ।
  • অ্যাকাউন্টের সুরক্ষার জন্য বিকাশ অ্যাকাউন্টের সঠিক পিন (PIN) নম্বর।
  • প্রথম কিস্তির টাকা জমা দেওয়ার জন্য অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স।

বিকাশে ডিপিএস খোলার নিয়ম ২০২৬

Bkash অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই নতুন ডিপিএস খোলা সম্ভব। বিকাশ অ্যাপ থেকে dps খোলার প্রতিটি ধাপ সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো:

ধাপ ১: বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ

প্রথমে আপনার স্মার্টফোনে থাকা বিকাশ অ্যাপটি চালু করুন। আপনার গোপন পিন (PIN) নম্বর সঠিকভাবে টাইপ করে অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। নিশ্চিত হয়ে নিন যে প্রথম কিস্তি কাটার জন্য অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা ব্যালেন্স হিসেবে রয়েছে। শর্তাবলি অনুযায়ী যদি প্রথম কিস্তির পরিমাণ টাকা আপনার একাউন্ট এ না থাকে, তাহলে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেনা, তাই আগে এই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিন।

Bkash app থেকে লোন নেওয়ার নিয়ম | যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য Bkash app থেকে লোন নেওয়ার নিয়ম | যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য Bkash August 4, 2026

ধাপ ২: সেভিংস অপশনে যান

অ্যাপের হোম স্ক্রিনে প্রবেশ করার পর আপনি বেশ কয়েকটি প্রধান সেবার আইকন দেখতে পাবেন। সেখান থেকে “সেভিংস” (Savings) নামক অপশনটির ওপর ট্যাপ করুন। এটি আপনাকে বিকাশ সঞ্চয় সংক্রান্ত মূল ইন্টারফেসে নিয়ে যাবে। প্রয়োজনে আমি নিচে স্ক্রিনশট দিয়ে দিয়েছি, দেখে নিন

Bkash saving option

ধাপ ৩: নতুন সেভিংস খুলুন

সেভিংস পেইজে যাওয়ার পর আপনার বর্তমান সক্রিয় কোনো ডিপিএস থাকলে তার তালিকা দেখাবেএবং তার নিচে “নতুন সেভিংস খুলুন” (Open New Savings) নামে একটি বোতাম বা বিকল্প দেখতে পাবেন, সেটিতে ক্লিক করুন।

নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন এবং মার্ক করা অংশে ক্লিক করুন।

Bkash dps

ধাপ ৪: ডিপিএস নির্বাচন করুন

এখানে সঞ্চয়ের ধরণ বেছে নিতে বলা হবে। আপনি যদি সাধারণ সুদের ওপর ভিত্তি করে ডিপিএস খুলতে চান তবে “সাধারণ ডিপিএস” নির্বাচন করবেন। আর যদি শরিয়াহ সম্মতভাবে সঞ্চয় করতে চান তবে “ইসলামিক ডিপিএস” অপশনটি বাছাই করবেন।

ধাপ ৫: মেয়াদ ও কিস্তির পরিমাণ নির্বাচন

এবার আপনাকে ডিপিএসের ধরন (মাসিক নাকি সাপ্তাহিক) নির্ধারণ করতে হবে। এরপর কত বছরের জন্য ডিপিএস রাখতে চান (যেমন: ৬ মাস, ১ বছর, ২ বছর, ৩ বছর বা ৪ বছর) তা নির্বাচন করুন। একই সাথে আপনি প্রতি মাসে বা সপ্তাহে কত টাকা জমা দিতে সক্ষম (যেমন: ২৫০, ৫০০, ১,০০০ টাকা ইত্যাদি) তাও চয়েস করে নিন।

ধাপ ৬: আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন

কিস্তি এবং সময়সীমা বাছাই করার পর স্ক্রিনে বেশ কয়েকটি ব্যাংক এবং নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম দেখতে পাবেন। সাথে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপরীতে সম্ভাব্য মুনাফার হার এবং মেয়াদপূর্তিতে আনুমানিক কত টাকা ফেরত পাওয়া যেতে পারে তার একটি খসড়া পরিসংখ্যান দেখানো হবে। আপনার পছন্দের ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচন করুন।

ধাপ ৭: নমিনির তথ্য দিন

এই ধাপে সঞ্চয়কারীর অনুপস্থিতিতে কে এই অর্থ দাবি করতে পারবেন, সেই নমিনির সঠিক তথ্য দিতে হবে। নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) নম্বর এবং তার সঠিক জন্ম তারিখ প্রবেশ করান। পাশাপাশি নমিনির সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কী (যেমন: মা, বাবা, স্ত্রী, সন্তান) তা নির্বাচন করুন।

ধাপ ৮: অটো ডেবিট ও শর্তাবলি

পরবর্তী স্ক্রিনে সঞ্চয়ের একটি সামগ্রিক বিবরণ বা সামারি ফুটে উঠবে। সেখানে আপনার নির্বাচিত কিস্তি জমা হওয়ার সময় বা নির্দিষ্ট অটো-ডেবিট তারিখ দেখতে পাবেন। সব শর্তাবলি এবং নিয়ম ভালোভাবে পড়ে গ্রহণ করতে সম্মতি প্রকাশ করুন।

ধাপ ৯: পিন দিয়ে নিশ্চিত করুন

সবশেষে আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টের গোপন পিন নম্বর দিয়ে স্ক্রিনের নিচের অংশটি কয়েক সেকেন্ড ট্যাপ করে ধরে রাখুন। আপনার পিন সঠিক হলে তাৎক্ষণিকভাবে ডিপিএস সফলভাবে তৈরি হয়ে যাবে এবং একটি নিশ্চিতকরণ মেসেজ দেখতে পাবেন।

বিকাশের মাসিক ডিপিএস

প্রতিমাসে নির্দিষ্ট পরিমাণের টাকা জমানোর জন্য মাসিক ডিপিএস একটি জনপ্রিয় পছন্দ। যারা চাকরিজীবী বা নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের সাথে যুক্ত, তাদের জন্য প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে টাকা কাটানোর সুযোগ সুবিধাজনক। মাসিক ডিপিএসের ক্ষেত্রে সাধারণত সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা কিস্তি থেকে শুরু করা যায় এবং এর মেয়াদ ৬ মাস থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৮ মাস পর্যন্ত হতে পারে। নির্ধারিত তারিখে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চলে যায়।

বিকাশের সাপ্তাহিক ডিপিএস

ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী বা যারা প্রতিদিন কিংবা সপ্তাহে ছোট ছোট আয় করেন, তাদের জন্য সাপ্তাহিক ডিপিএস বিশেষভাবে উপযোগী। এতে খুব কম অঙ্কের টাকা দিয়েই দীর্ঘমেয়াদী ফান্ড গঠন করা সম্ভব হয়। সাপ্তাহিক ডিপিএসে কিস্তির পরিমাণ সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা থেকে শুরু হতে পারে এবং এটি সাধারণত ৬ মাস বা ১২ মাস মেয়াদে উপলব্ধ থাকে। প্রতি সপ্তাহে বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা রাখলে নির্ধারিত দিনে সিস্টেম নিজে থেকেই কিস্তির টাকা কেটে নেয়।

মাসিক ও সাপ্তাহিক ডিপিএসের পার্থক্য

মাসিক এবং সাপ্তাহিক ডিপিএসের মধ্যে মূল পার্থক্য বোঝার জন্য নিচের তালিকাটি লক্ষ্য করুন:

জমার ধরন সর্বনিম্ন কিস্তি সম্ভাব্য মেয়াদ কার জন্য সুবিধাজনক
মাসিক ডিপিএস ৫০০ টাকা (পরিবর্তনশীল) ৬, ১২, ২৪, ৩৬, ৪৮ মাস চাকরিজীবী বা নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের পেশাজীবীদের জন্য।
সাপ্তাহিক ডিপিএস ২৫০ টাকা (পরিবর্তনশীল) ৬ এবং ১২ মাস ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার বা শিক্ষার্থীদের জন্য।

বাস্তব উদাহরণ

উদাহরণ ১ (মাসিক ডিপিএস): ধরা যাক, আপনি ১ বছর বা ১২ মাসের জন্য প্রতি মাসে ৫০০ টাকা কিস্তিতে একটি ডিপিএস চালু করলেন। এক্ষেত্রে ১২ মাসে আপনার মোট জমা টাকার পরিমাণ হবে (৫০০ × ১২) = ৬,০০০ টাকা। মেয়াদ শেষে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন নিয়ম ও মুনাফা যোগ করে এর সাথে অতিরিক্ত টাকা প্রদান করা হবে।

উদাহরণ ২ (সাপ্তাহিক ডিপিএস): অন্যদিকে, আপনি যদি ৬ মাসের জন্য প্রতি সপ্তাহে ২৫০ টাকা কিস্তিতে একটি ডিপিএস শুরু করেন, তবে ৬ মাসে (২৬ সপ্তাহে) আপনার মোট জমা টাকার পরিমাণ দাঁড়াবে (২৫০ × ২৬) = ৬,৫০০ টাকা। এতে খুব বড় চাপ ছাড়াই একটি বড় অংকের মূলধন জমে যায়।

ডিপিএসের কিস্তি কীভাবে জমা হয়?

বন্ধুরা,বিকাশ ডিপিএসে কিস্তি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। যাকে বলা হয় ‘অটো ডেবিট’ (Auto-Debit) সুবিধা, যখন আপনি ডিপিএস খোলেন, তখন বিকাশ প্রতি মাসে বা সপ্তাহে একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করে দেয়। সেই তারিখ আসার সাথে সাথে যদি আপনার বিকাশ ওয়ালেটে কিস্তির সমপরিমাণ মূলধন থাকে, তবে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা কেটে নেবে এবং আপনার জমা নিশ্চিত করবে। এর জন্য ব্যবহারকারীকে ম্যানুয়ালি কোনো বিল পেমেন্ট করতে হয় না।

কিস্তির দিনে বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকলে কী হবে?

আমাদের অনেকের এমন হয় যে কিসতির সময় হয়েগেছে কিন্তু বিকাশে টাকা নেই, এমতাবস্থায়,কিস্তি পরিশোধের নির্দিষ্ট দিনে যদি আপনার বিকাশ ওয়ালেটে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা না থাকে, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তি জমা হতে পারবে না। সাধারণত পরবর্তী কয়েক দিন পর্যন্ত সিস্টেম পর্যায়ক্রমে টাকা কাটার চেষ্টা করে। যদি এর মধ্যেও আপনি অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স রিচার্জ না করেন, তবে সেই মেয়াদের কিস্তিটি অসম্পূর্ণ বা বকেয়া থেকে যাবে। নিয়মিত সময়মতো কিস্তি জমা দিতে ব্যর্থ হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নীতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণের বিলম্ব ফি কাটতে পারে বা ডিপিএস স্থগিত হয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরবর্তীতে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ।

ঘরে বসেই পান ডুয়েল কারেন্সি কার্ড: উপায় (upay) অ্যাপ থেকে আবেদনের সম্পূর্ণ নিয়ম ঘরে বসেই পান ডুয়েল কারেন্সি কার্ড: উপায় (upay) অ্যাপ থেকে আবেদনের সম্পূর্ণ নিয়ম Upay August 10, 2026

ডিপিএসে নমিনি দেওয়ার নিয়ম

ডিপিএস খোলার সময় সঠিক নমিনি (Nominee) যুক্ত করা একটি আইনি এবং বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। নমিনি হলেন সেই ব্যক্তি, সঞ্চয়কারীর দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু ঘটলে যিনি জমানো টাকা এবং অর্জিত মুনাফা উত্তোলন করার আইনি অধিকার লাভ করবেন।

নমিনি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে:

  • নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম সনদের তথ্য নির্ভুলভাবে অ্যাপে বসাতে হবে।
  • নমিনি হিসেবে সাধারণত বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের মতো নিকটাত্মীয়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
  • ভুল তথ্য দিলে ভবিষ্যতে মূলধন উত্তোলনের সময় নমিনিকে জটিল আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।

মেয়াদ শেষে ডিপিএসের টাকা কীভাবে পাবেন?

ডিপিএসের নির্ধারিত সময়সীমা বা মেয়াদ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর সঞ্চিত মূল টাকা এবং প্রযোজ্য সমস্ত মুনাফা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল বিকাশ অ্যাকাউন্টে ক্যাশ ইন (Cash-In) হিসেবে জমা হয়ে যায়। এর জন্য কোনো ব্যাংকে যোগাযোগের প্রয়োজন পড়ে না। বিকাশ অ্যাপের বর্তমান সুবিধা অনুযায়ী ডিপিএস থেকে প্রাপ্ত অর্থ সাধারণ ক্যাশ আউট প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হতে পারে, যা গ্রাহক তার সুবিধা অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে এই চার্জ ও নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে সংশোধন আসতে পারে।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ডিপিএস বন্ধ করলে কী হতে পারে?

ডিপিএস হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক চুক্তি। তবে কোনো জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই সঞ্চয় হিসাবটি বন্ধ করার অপশন বিকাশ অ্যাপে থাকে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, অকাল পরিপক্কতা বা সময়ের আগে টাকা তুললে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় নীতি অনুযায়ী মূল টাকা ফেরত পেলেও পুরো মুনাফা না-ও পাওয়া যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শর্তানুসারে সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের হারে কম সুদ যুক্ত হয়। তাই খুব বেশি প্রয়োজন না পড়লে ডিপিএস নির্দিষ্ট সময়সীমার আগে না ভাঙাই যৌক্তিক।

বিকাশে ডিপিএস খোলার সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

প্রধান সুবিধাগুলো:

  • সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়া, ফলে সময় বাঁচে এবং কোনো ব্যাংকে দৌড়ঝাঁপ করার প্রয়োজন হয় না।
  • অটো ডেবিট ব্যবস্থার কারণে নির্দিষ্ট দিনে নিজ থেকেই টাকা জমা হয়ে যায়।
  • বিভিন্ন নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা একই জায়গায় তুলনা করার স্বাধীনতা রয়েছে।
  • ক্ষুদ্র পরিসরে মাত্র ২৫০ বা ৫০০ টাকা দিয়েই আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তোলার অভ্যাস তৈরি হয়।

সীমাবদ্ধতা:

  • অ্যাকাউন্টে সময়মতো টাকা না থাকলে অটো ডেবিট ব্যর্থ হয়ে বকেয়া জমতে পারে।
  • ইন্টারনেট সংযোগ এবং ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার ছাড়া এই সেবা নেওয়া সম্ভব নয়।
  • সময়ের আগে হিসাব বন্ধের ক্ষেত্রে ব্যাংক নীতি অনুযায়ী মুনাফা অর্জনে ঘাটতি হয়।

ডিপিএস খোলার আগে ৭টি বিষয় অবশ্যই মনে রাখুন

সঞ্চয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সচেতনতার সাথে নিচে উল্লিখিত ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন:

  1. সামর্থ্যের অতিরিক্ত কিস্তি নির্ধারণ: নিজের আয়ের সাথে সামঞ্জস্য না রেখে বড় কিস্তি নির্বাচন করলে পরবর্তীতে টাকা জমা দেওয়া কঠিন হতে পারে।
  2. বিকাশ অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স না রাখা: কিস্তির নির্ধারিত দিনগুলোতে অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় টাকা না রাখলে প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
  3. মেয়াদ সম্পর্কে অস্পষ্টতা: আপনার কত সময় পর টাকার প্রয়োজন হতে পারে, তা বিবেচনা না করে ভুল মেয়াদ চয়ন করা অনুচিত।
  4. নমিনির তথ্যে ভুল করা: তথ্য অসাবধানতাবশত ভুল দিলে পরোক্ষভাবে আইনি সমস্যা তৈরি করতে পারে।
  5. মেয়াদপূর্ব প্রত্যাহারের বিষয় বিবেচনা না করা: মাঝপথে টাকা তুলে ফেললে ক্ষতি বা মুনাফা হারানোর সম্ভাবনা মাথায় রাখা উচিত।
  6. অবাস্তব গুজবে কান দেওয়া: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে সর্বদা অ্যাপের অফিসিয়াল সুদের হার দেখে সিদ্ধান্ত নিন।
  7. উৎসে কর ও শুল্ক ভুলে যাওয়া: আর্থিক নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকিং মুনাফার ওপর নির্দিষ্ট কর (TDS) ও আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে, যা নিট মুনাফায় প্রভাব ফেলে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ১: বিকাশে ডিপিএস কী?

উত্তর: বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের নিবন্ধিত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ভিত্তিতে টাকা জমা রাখার একটি নিরাপদ ডিজিটাল সঞ্চয় মাধ্যম।

প্রশ্ন ২: বিকাশে ডিপিএস খুলতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: ডিপিএস শুরু করতে আলাদা কোনো অতিরিক্ত ফি লাগে না। শুধু আপনার নির্বাচিত প্রথম কিস্তির সমপরিমাণ টাকা অ্যাকাউন্টে জমা থাকতে হয়।

প্রশ্ন ৩: বিকাশে ৫০০ টাকা দিয়ে ডিপিএস খোলা যায় কি?

উত্তর: হ্যাঁ, বিকাশে মাসিক ডিপিএসের ক্ষেত্রভেদে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অংকের ডিপিএস খোলার সুযোগ রয়েছে।

প্রশ্ন ৪: বিকাশে সাপ্তাহিক ডিপিএস কত টাকা থেকে শুরু?

উত্তর: সাপ্তাহিক ডিপিএসের কিস্তি সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা থেকে শুরু করা যেতে পারে।

প্রশ্ন ৫: বিকাশে ডিপিএস কত মাসের জন্য খোলা যায়?

উত্তর: এটি ৬ মাস, ১২ মাস, ২৪ মাস, ৩৬ মাস কিংবা ৪৮ মাস মেয়াদে চালুর সুযোগ রয়েছে।

প্রশ্ন ৬: বিকাশ ডিপিএস খুলতে ব্যাংকে যেতে হয় কি?

উত্তর: না, সব কাগজপত্র যাচাই এবং আবেদন প্রক্রিয়া বিকাশ অ্যাপ থেকেই সশরীরে কোনো ব্যাংকে না গিয়ে সম্পাদন করা যায়।

প্রশ্ন ৭: বিকাশ ডিপিএসের কিস্তি কীভাবে জমা হয়?

উত্তর: আপনার বিকাশ মূল অ্যাকাউন্ট থেকে ‘অটো ডেবিট’ ব্যবস্থার সাহায্যে নির্দিষ্ট তারিখে অটোমেটিক টাকা কেটে জমা নেওয়া হয়।

প্রশ্ন ৮: কিস্তির দিনে অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকলে কী হয়?

উত্তর: সেদিন অটো ডেবিট ব্যর্থ হবে। পর পর কয়েকবার কিস্তি মিস হলে জরিমানা যুক্ত হতে পারে অথবা সাময়িকভাবে সেবা স্থগিত হতে পারে।

প্রশ্ন ৯: ডিপিএসে নমিনি দেওয়া যায় কি?

উত্তর: অবশ্যই, অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সময়ই বাধ্যতামূলকভাবে নমিনির নাম, পরিচয়পত্র ও সম্পর্ক যুক্ত করতে হয়।

প্রশ্ন ১০: মেয়াদ শেষে টাকা কীভাবে পাওয়া যায়?

উত্তর: মেয়াদ শেষ হলে আসল টাকা ও অৰ্জিত প্রাতিষ্ঠানিক মুনাফা সরাসরি আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টে ক্যাশ ইন হয়ে ফিরে আসবে।

প্রশ্ন ১১: মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ডিপিএস বন্ধ করা যায় কি?

উত্তর: হ্যাঁ, প্রয়োজন হলে বিকাশ অ্যাপ থেকেই মেয়াদপূর্তির আগে বন্ধ করা যায়, তবে ব্যাংকের শর্তানুযায়ী সুদের হারে তারতম্য হতে পারে।

প্রশ্ন ১২: বিকাশে একাধিক ডিপিএস খোলা যায় কি?

উত্তর: যোগ্যতার নিয়ম পূরণ করা সাপেক্ষে একজন গ্রাহক একই অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক ব্যাংক বা মেয়াদের সঞ্চয় ডিপিএস চালনা করতে পারেন।

শেষ কথা

ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে সঞ্চয়কে সহজ এবং সুশৃঙ্খল করতে বিকাশ অ্যাপের ডিপিএস সেবা একটি কার্যকর সমাধান। ক্ষুদ্র কিংবা মাঝারি—যে কোনো পরিমাণ উদ্বৃত্ত টাকা নিয়মিত জমিয়ে আপনি নিজের একটি শক্তিশালী আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেন। নিজের প্রয়োজন ও মাসিক আয়ের সামর্থ্য বুঝে সঠিক মেয়াদ এবং কিস্তি বেছে নিন। নিয়মিত অ্যাকাউন্টে টাকা রাখুন এবং নিরাপদ সঞ্চয়ের সুফল উপভোগ করুন।

সতর্কতা

এই ব্লগ পোস্টে প্রদত্ত সকল তথ্য সাধারণ পাঠকদের সচেতনতা ও নির্দেশনার উদ্দেশ্যে রচিত। ডিপিএস খোলার পূর্বে বিকাশ অ্যাপের সর্বশেষ শর্তাবলি, যুক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা, প্রশাসনিক শুল্ক এবং সরকারি করের নিয়মাবলি নিজ দায়িত্বে বিকাশ অ্যাপ বা অফিসিয়াল মাধ্যমে যাচাই করে চূড়ান্ত আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তথ্যসূত্র

উক্ত তথ্যাবলি বিকাশ বাংলাদেশ-এর অফিসিয়াল অ্যাপ, সেবানির্দেশিকা এবং তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য কাঠামোর ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারি ব্যাংক নীতিমালা অনুযায়ী সময়ক্রমে সুদের হার ও সেবা পরিবর্তনযোগ্য।


Spread the love
Telegram chanel Join our Telegram channel
Join
LekhokBD.me

আমি রিফাত, LekhokBD.me এর প্রতিষ্ঠাতা। আমি পেশায় একজন ছাত্র, বর্তমানে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত রয়েছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি,বাংলাদেশের নাগরিক সেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে LekhokBD তে সহজ ভাবে তুলে ধরে, মানুষের কাছে তথ্যকে সহজলভ্য করাই আমার মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment