জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন করার নিয়ম ২০২৬ | ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইড

Birthday certificate

সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

ফেসবুকে জয়েন করুন

আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি দলিল হলো জন্ম সনদ। পাসপোর্ট করা, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) তৈরি, স্কুলে ভর্তি, কিংবা চাকরির আবেদন—সব ক্ষেত্রে ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল জন্ম সনদ অপরিহার্য। তবে অনেক সময় অসাবধানতা, বানান ভুল বা তথ্যের ঘাটতির কারণে জন্ম সনদে নিজেদের বা মা-বাবার নাম, জন্ম তারিখ কিংবা ঠিকানায় ভুল থেকে যায়।

এই ভুল সংশোধন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। রেজিস্টার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (BDRIS)-এর অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে অনলাইনে যে সংশোধনী ফরমটি পূরণ করতে হয়, তাকেই মূলত জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন বলা হয়। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে জমা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে সনদের ভুলগুলো শুধরে নতুন ও সঠিক সনদ প্রদান করে।

কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যায়

একজন নাগরিক সরকারি নিয়ম মেনে তার জন্ম সনদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধন বা হালনাগাদ করতে পারেন। নিচে কোন কোন তথ্যে সংশোধনের আবেদন করা যায় তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

  • নিজের নাম (বাংলা ও ইংরেজি): নামের বানানে ভুল থাকলে, যেমন- অতিরিক্ত কোনো অক্ষর বাদ দেওয়া বা যুক্ত করা, কিংবা ইংরেজি স্পেলিং ভুল থাকলে সংশোধন করা যায়।
  • জন্ম তারিখ: জন্ম তারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়। নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে শিক্ষা সনদ বা নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সনদের ওপর ভিত্তি করে জন্ম তারিখ পরিবর্তন সম্ভব।
  • পিতামাতার নাম (বাংলা ও ইংরেজি): বাবা বা মায়ের নামের বানান ভুল থাকলে কিংবা তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে অমিল থাকলে সংশোধনের আবেদন করা যায়।
  • পিতামাতার ক্রমিক ও তথ্য: সন্তান পিতামাতার কত নম্বর সন্তান (যেমন- ১ম, ২য় বা ৩য়), তা ভুল থাকলে সংশোধন করা যায়।
  • ঠিকানা: স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা বা জন্মস্থানের ঠিকানায় জেলা, উপজেলা, পোস্ট কোড বা গ্রামের নাম ভুল হলে তা সঠিক করার সুযোগ রয়েছে।
  • লিঙ্গ ও জন্মস্থান: পুরুষ/মহিলা নির্বাচনে ভুল হলে কিংবা হাসপাতালের তথ্য ভুল থাকলে তা পরিবর্তন করা যায়।

জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন এর আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন করার আগে কয়েকটি মৌলিক বিষয় পরিষ্কার জেনে রাখা ভালো, যাতে পরবর্তীতে আবেদনটি বাতিল না হয় কিংবা প্রশাসনিক কোনো জটিলতা তৈরি না হয়।

জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন

প্রথমত, আপনার জন্ম সনদটি অবশ্যই ১৭ ডিজিটের অনলাইন ডিজিটাল সনদ হতে হবে। হাতে লেখা পুরোনো সনদপত্র অনলাইনে কোনো কাজ করবে না। যদি আপনার সনদটি হাতে লেখা হয়ে থাকে, তবে আগে সেটিকে ডিজিটাল করার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে, তারপর সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, বাবা-মায়ের নামের বানান সংশোধনের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য। আপনি যদি নিজের জন্ম সনদে বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করতে চান, তবে অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের নিজস্ব ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র সঠিক থাকা আবশ্যক। পিতামাতার সনদ ভুল থাকলে আগে তাঁদের সনদ সংশোধন করতে হতে পারে।

মনে রাখবেন: সরকারি নিয়ম বা পোর্টালের নিয়মকানুন সময়ানুসারে হালনাগাদ হতে পারে। তাই জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন জমা দেওয়ার আগে বিডিআরআইএস (BDRIS)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ নির্দেশিকাগুলো একবার দেখে নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ভুল সংশোধনের ভিত্তি হলো আপনার দেওয়া প্রমাণপত্র। আপনি যা পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন, তার সপক্ষে শক্তিশালী দাপ্তরিক প্রমাণ দেখাতে হবে। তথ্যভেদে যে যে ডকুমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে:

১. নাম ও বানান সংশোধনের জন্য

  • পিএসসি (PSC), জেএসসি (JSC), এসএসসি (SSC) বা সমমানের শিক্ষা সনদের সত্যায়িত কপি।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (যদি থাকে)।
  • পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে)।
  • পিতামাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও অনলাইন জন্ম সনদের ফটোকপি।

২. জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য

  • মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সনদপত্র (যেখানে স্পষ্টভাবে জন্ম তারিখ লেখা রয়েছে)।
  • ছোটদের ক্ষেত্রে সরকারি বা নিবন্ধিত হাসপাতাল/এমবিবিএস ডাক্তারের ইস্যু করা জন্ম সংক্রান্ত ছাড়পত্র বা সার্ভিস বইয়ের সত্যায়িত কপি।
  • বয়স প্রমাণের জন্য সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রাপ্ত বয়সের প্রত্যয়নপত্র (প্রয়োজনে)।

৩. ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সংশোধনের জন্য

  • স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণের জন্য ইউটিলিটি বিলের কপি (বিদ্যুৎ, পানি বা গ্যাস বিল)।
  • জমির খতিয়ান, খাজনা পরিশোধের রশিদ বা ইউপি চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদপত্র।

অনলাইনে জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন করার ধাপ

অনলাইনে নিজে নিজেই এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে নিচে উল্লেখ করা ধাপগুলো মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করতে হবে:

ধাপ ১: সরকারি পোর্টালে প্রবেশ

প্রথমেই আপনার কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের ব্রাউজার থেকে সরকারি ওয়েবসাইট bdris.gov.bdএ প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইটের মূল মেনু থেকে “জন্ম নিবন্ধন” অপশনে ক্লিক করে “জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন” নির্বাচন করুন।

ধাপ ২: জন্ম সনদের ১৭ ডিজিটের নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রদান

নির্ধারিত ঘরে আপনার ১৭ ডিজিটের নিবন্ধিত জন্ম নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিন। এরপর ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে টাইপ করে “অনুসন্ধান” বাটনে ক্লিক করুন। আপনার তথ্য সঠিক থাকলে স্ক্রিনে আপনার বর্তমান জন্ম সনদের বিস্তারিত তথ্য প্রদর্শিত হবে।

ধাপ ৩: নিবন্ধন কার্যালয় নির্বাচন

পরবর্তী পেজে আপনাকে আপনার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয় (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বা বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন) নির্বাচন করতে হবে, যেখানে আপনি আবেদনের প্রিন্ট কপি ও কাগজপত্র জমা দিবেন।

ধাপ ৪: তথ্য সংশোধন নির্বাচন ও সঠিক তথ্য প্রদান

এখানে একটি তালিকা দেখতে পাবেন। আপনি যে যে তথ্য পরিবর্তন করতে চান (যেমন: নাম, জন্ম তারিখ, পিতামাতার নাম), প্রতিটি তথ্যের পাশে অপশন বেছে নিন। সিলেক্ট করার পর পাশে সঠিক তথ্যটি টাইপ করুন এবং পরিবর্তনের কারণ (যেমন: ভুল তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল/বানান ভুল) নির্বাচন করুন।

ধাপ ৫: আবেদনকারীর ঠিকানা ও পরিচিতি

আবেদনটি কে করছেন—নিজেই নাকি পিতা/মাতা/অভিভাবক, তা সিলেক্ট করুন। এরপর আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা এবং একটি চালু মোবাইল নম্বর দিন। এই মোবাইল নম্বরেই আবেদনের পিন নম্বর ও আপডেট মেসেজ পাঠানো হবে।

ধাপ ৬: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড

আপনার কাছে যেসব ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি রয়েছে (যেমন: সার্টিফিকেট, এনআইডি, ইউটিলিটি বিল), সেগুলোর ফাইল নির্দিষ্ট বাটনে ক্লিক করে আপলোড করুন। ফাইল ফরম্যাট সাধারণত JPG বা PDF হতে হয় এবং ফাইলের সাইজ নির্দিষ্ট সীমার (যেমন: ১০০-২৫০ কেবি) মধ্যে রাখা ভালো।

ধাপ ৭: আবেদন প্রিভিউ ও সাবমিট

সব তথ্য দেওয়া শেষ হলে পুরো আবেদনটি পুনরায় ভালো করে পড়ে নিন। কোথাও কোনো টাইপিং ভুল থাকলে তা এখনই সংশোধন করুন। সবকিছু ঠিক থাকলে “সংরক্ষণ করুন” বা “Submit” বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৮: আবেদন ফরম প্রিন্ট করা

আবেদন সফলভাবে সাবমিট হলে স্ক্রিনে একটি “আবেদন অ্যাপ্লিকেশন আইডেন্টিফায়ার” বা ট্র্যাকিং নম্বর সহ সম্পূর্ণ আবেদনপত্রটি চলে আসবে। এটিকে পিডিএফ আকারে সেভ করে রাখুন এবং একটি রঙিন বা পরিষ্কার প্রিন্ট আউট নিয়ে নিন।

আবেদন ফি কত

সরকারি বিধিমালার আওতায় জন্মনিবন্ধন তথ্য সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি নির্ধারণ করা আছে। ফি এর পরিমাণ সংশোধিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। নিচে একটি সম্ভাব্য তালিকার মাধ্যমে তথ্য তুলে ধরা হলো:

  • সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের নির্ধারিত নিয়ম প্রযোজ্য।
সেবার ধরন ফি (টাকায়) মন্তব্য
জন্ম তারিখ সংশোধন ১০০ টাকা প্রয়োজনীয় শিক্ষা সনদ বা চিকিৎসা সার্টিফিকেট সাপেক্ষে।
নাম, পিতামাতার নাম বা ঠিকানা সংশোধন ৫০ টাকা আবেদন ফি চালানের মাধ্যমে বা সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা যোগ্য।
সনদের ভুল সংশোধন ও প্রতিলিপি (বাংলা ও ইংরেজি) ৫০ টাকা একসাথে সংশোধিত কপি উত্তোলনের ফি।
বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন থেকে সংশোধন নির্দিষ্ট ডলার/মুদ্রা

নোট: সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে ফি এর মান যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। ই-চালান (e-chalan) বা সরাসরি ইউনিয়নের ক্যাশে ফি জমা নেওয়া হয়।

আবেদন করার পর কীভাবে আবেদন স্ট্যাটাস দেখবেন

আবেদন সাবমিট করার পর আপনার কাজ কিন্তু শেষ নয়। আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে আছে বা অনুমোদিত হয়েছে কিনা, তা সহজেই অনলাইনে ট্র্যাক করা যায়।

  1. প্রথমে bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে যান।
  2. মেনুবার থেকে “আবেদনের অবস্থা” বা “Application Status” অপশনে ক্লিক করুন।
  3. আবেদনের ধরন থেকে “জন্ম নিবন্ধন সংশোধন” সিলেক্ট করুন।
  4. আপনার আবেদন পত্রের ওপর থাকা “Application Application ID” এবং জন্ম তারিখ প্রবেশ করান।
  5. “Search” বাটনে ক্লিক করলে আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা (যেমন: Pending, Approved, Rejected) স্ক্রিনে দেখা যাবে।

আবেদন অনুমোদন হতে কতদিন লাগে

সাধারণত জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন সফলভাবে অফিসে জমা দেওয়ার পর থেকে ৭ থেকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সমাধান হয়ে থাকে। তবে সময় নির্ভর করে কয়েকটির বিষয়ের ওপর:

  • আপনার স্থানীয় ইউপি বা পৌরসভা অফিসের কাজের চাপের ওপর।
  • আপনার জমা দেওয়া কাগজপত্রের স্পষ্টতা ও সত্যতার ওপর।
  • যদি জন্ম তারিখ পরিবর্তন সংক্রান্ত জটিল সংশোধন হয়, তবে এটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পর্যন্ত তদন্তের জন্য যেতে পারে, সে ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ৩০ দিন বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।

আবেদন বাতিল হওয়ার সাধারণ কারণ

অনেকেই অভিযোগ করেন যে তাদের আবেদন বাতিল হয়ে গিয়েছে। মূলত সঠিক নিয়ম না মানার কারণে এই সমস্যাটি ঘটে। সাধারণ কারণসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

  • ভুল বা ঝাপসা ডকুমেন্ট আপলোড: যে ফাইল আপলোড করা হয়েছে তা যদি স্পষ্ট পড়া না যায় বা ভুয়া কাগজ মনে হয়।
  • সনদের সাথে মিল না থাকা: শিক্ষা সনদে নামের বানান একরকম কিন্তু আবেদনে অন্য বানান টাইপ করা।
  • উপযুক্ত দলিলের অভাব: বিশেষ করে জন্ম তারিখ পরিবর্তনের জন্য গ্রহণযোগ্য কোনো বোর্ড সার্টিফিকেট না থাকা।
  • পিতামাতার তথ্যে গরমিল: সন্তানের সনদে নাম বদলাতে গিয়ে দেখা গেল পিতামাতার নিজেদের সনদে সেই নাম নিবন্ধিত নেই।
  • অনলাইন ফি জমা না দেওয়া: অনলাইনে আবেদন করার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রিন্ট কপি ও ফি অফিসে না পৌঁছানো।

আবেদন করার সময় সাধারণ ভুল

আবেদন করার সময় অধিকাংশ মানুষ যে ভুলগুলো করে থাকেন, সেগুলো আগে থেকে জানা থাকলে আপনি সেগুলো এড়িয়ে চলতে পারবেন:

প্রথমত, অনেকেই বাংলা ও ইংরেজি উভয় বানানের দিকে সমান নজর দেন না। বাংলায় নাম ঠিক করলেও ইংরেজিতে ভুল বানান রেখে দেন। সবসময় খেয়াল রাখবেন, পাসপোর্টের সাথে মিল রেখে ইংরেজি নামের বানান টাইপ করা অত্যন্ত জরুরি।

দ্বিতীয়ত, আবেদনকারী হিসেবে নিজেকে নির্বাচন না করে অন্য কারো তথ্য দিলে সিস্টেমে বিভ্রাট ঘটে। আপনি যদি প্রাপ্তবয়স্ক হন, তবে আবেদনকারী হিসেবে “নিজ” সিলেক্ট করবেন। নাবালক সন্তানের ক্ষেত্রে “পিতা” বা “মাতা” সিলেক্ট করতে হবে।

সফলভাবে আবেদন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

আপনার সংশোধন আবেদনটি যেন প্রথম বারেই অনুমোদিত হয়, সে জন্য কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শ মেনে চলতে পারেন:

  • আবেদন ফরমটি প্রিন্ট করার পর আপনার নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সেন্টারে সমস্ত মূল কাগজপত্রসহ উপস্থিত হোন।
  • অনলাইন সাবমিটের সময় দেওয়া সচল মোবাইল নম্বরটি সবসময় সাথে রাখুন, কারণ অনুমোদন হলে ফোনে এসএমএস পাঠানো হবে।
  • কাগজপত্র স্ক্যান করার সময় কোনো স্ক্যানার অ্যাপ বা স্পষ্ট স্ক্যানার মেশিন ব্যবহার করুন, যাতে মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে তোলা ঝাপসা ছবি আপলোড না করতে হয়।
  • যে কোনো জটিলতায় সরাসরি ইউপি সচিব বা নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা সাহেবের সাথে কথা বলুন, কোনো অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের খপ্পরে পড়বেন না।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. জন্মনিবন্ধন সংশোধন করতে কত দিন সময় লাগে?

সাধারণ সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কর্মদিবস সময় লাগে। তবে জন্ম তারিখের মতো জটিল সংশোধনের ক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে ১৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে।

২. ঘরে বসেই কি জন্মনিবন্ধন সংশোধন সম্পূর্ণ করা সম্ভব?

অনলাইনে ফরম পূরণ এবং ফাইল আপলোড আপনি ঘরে বসেই করতে পারবেন। কিন্তু আবেদনের প্রিন্ট কপি এবং সত্যায়িত কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় নিবন্ধন অফিসে জমা দিতে হয়।

৩. জন্মনিবন্ধনে কি বয়স কমানো বা বাড়ানো যায়?

হ্যাঁ, সংশোধন করা যায়। তবে এটি বেশ জটিল প্রক্রিয়া। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (যেমন এসএসসি সার্টিফিকেট) বা সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রাপ্ত বয়সের প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই কেবল বয়স পরিবর্তন সম্ভব।

৪. অনলাইন ফি কীভাবে প্রদান করব?

অনেক এলাকায় ই-চালান (A-Challan) বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি প্রদান করা যায়। আবার কিছু জায়গায় আবেদনের প্রিন্ট কপি জমা দেওয়ার সময় সরাসরি অফিসে ফি গ্রহণ করা হয়।

৫. জন্মনিবন্ধনে মা-বাবার নাম ভুল থাকলে করণীয় কী?

যদি আপনার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ডিজিটাল জন্মনিবন্ধনে নাম সঠিক থাকে, তবে সেই কাগজের ভিত্তিতে আপনার সনদে পিতামাতার নাম সংশোধন করতে পারবেন।

৬. জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন  রিজেক্ট বা বাতিল হলে পুনরায় আবেদন করা যাবে?

হ্যাঁ, বাতিল হলে বাতিলের কারণ জেনে প্রয়োজনীয় সঠিক কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবার নতুন করে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন।

৭. আমার সনদ ১৭ ডিজিটের না হলে কি সংশোধন আবেদন করতে পারব?

না, অ্যানালগ বা হাতে লেখা সনদে অনলাইন সংশোধন আবেদন করা যায় না। প্রথমে আপনাকে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় গিয়ে সনদটি ডিজিটাল (১৭ ডিজিটের) করে নিতে হবে।

৮. সংশোধিত নতুন সনদ কীভাবে পাব?

আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর নির্ধারিত ফি পরিশোধ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত নতুন ডিজিটাল প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন নিয়ে শেষ কথা

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল জন্ম সনদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাই এতে কোনো ভুল থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত সংশোধন করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। নিয়মগুলো সঠিকভাবে মেনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করলে কোনো হয়রানি ছাড়াই আপনার জন্মনিবন্ধন সংশোধন আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন হবে। সরকারি যেকোনো সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সবসময় সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য প্রদান করুন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের নির্দেশনা মেনে চলুন।

মন্তব্য

আপনার মতামত জানান